২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২২ আসামির ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসার পর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদন করেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে নূরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কারাগারে মারা যাওয়ায় তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে গণ্য করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে একজনের সাজা বহাল থাকে হাইকোর্টের রায়ে। অপর চার আসামি খালাস পান। এক আসামি আপিল না করায় তাঁর বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি হাইকোর্ট। এ হিসেবে সব মিলিয়ে বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন খালাস পান।

ওই ১১ জনকে খালাসের রায় স্থগিত চেয়ে ২০১৬ সালের জুনে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২১ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত খালাসের রায় স্থগিত করে আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই আপিল বিভাগ ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে খালাসের রায় বহাল থাকে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে খালাসপ্রাপ্ত দুজন কারামুক্তি পান।

অন্যদিকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর একই বছর বাদী ও আসামিপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে কার্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছরের ৭ জানুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ‘মতিউর রহমান বনাম মনির এবং অন্যান্য’ শিরোনামে লিভ টু আপিলগুলো কার্যতালিকার ১৪ নম্বর ক্রমিকে ছিল। সেদিন এর ফলাফলের ঘরে লেখা, আপাতত কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। এখন লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

আলোচনা ও স্মরণসভা

১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি স্মৃতি পরিষদ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মরণসভার আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আপিল বিভাগে মামলাটি রয়েছে। বিশ্বাস করি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আপিল বিভাগের রায়ও আমরা পাব।’

গাজীপুরে আজ স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা হবে। সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরাবাদ গ্রামে আহসানউল্লাহ মাস্টারের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেলে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন