টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে বাবুডাইং পিকনিক স্পটে মানুষের আনাগোনা নেই। অথচ এই সময়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর থাকত এই বন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ঝিলিম ইউনিয়নের বরেন্দ্র অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার সুদৃশ্য ছোট ছোট কিছু টিলা ও বনে ঘেরা নৈসর্গিক দৃশ্যের লীলাভূমি বাবুডাইং পিকনিক স্পট।
গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুডাইং বনে সুনসান অবস্থা। লোকজন নেই বললেই চলে। এ সময় সেখানে দেখা হয় মজিবুর রহমান ও তাঁর বন্ধু জহিরুল ইসলামের সঙ্গে।
মজিবুর রহমান জানান, তিনি হচ্ছেন এই বনে গাছ লাগানোর ঠিকাদার। ১৯৮৬ সালে বরেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে বাবুডাইংয়ের টিলাগুলোতে গাছ লাগানো হয়। এই বনের টানেই মাঝেমধ্যে তিনি এখানে বেড়াতে আসেন। কিন্তু এবার বেড়াতে এসে এখানকার সুনসান অবস্থা দেখে তাঁর মন খারাপ হয়ে গেছে।
পিকনিক স্পটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাবুডাইং মোড়ের ব্যবসায়ীদের মতে, টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে এখানে দর্শনার্থী ও পিকনিক করতে আসা মানুষের আগমন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এখন পিকনিকের ভরা মৌসুম চলছে।
বাবুডাইং পিকনিক স্পটের মধ্যে অবস্থিত পানি, কোমল পানীয়, শুকনো খাবার ও পান-সিগারেটের দোকানদার সাইদুর রহমান বলেন, শীত মৌসুমে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বেড়াতে ও পিকনিক করতে এখানে আসে। গাড়ির দীর্ঘ সারি লেগেই থাকে। কিন্তু এবার গাড়ির সারিই চোখে পড়েনি। এ মৌসুমে সিকি পরিমাণ দর্শনার্থীও আসেনি। আগে প্রতিদিন তাঁর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি ছিল। এখন ৪০০ টাকার বেশি হয় না। কেবল গত শুক্রবারেই বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছেন।
বাবুডাইং মোড়ের দোকানদার রুহুল আমীন বলেন, তাঁর দোকানের বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কমে। অভাব মোকাবিলা করতে তিনি ইতিমধ্যেই বাড়িতে পোষা দুটি গরুও বিক্রি করেছেন।
মুদি কাম চা ও ভাজা-পোড়া খাবারের দোকানদার সাহাদাৎ হোসেনেরও একই দশা। তিনি বলেন, বনের দিকে ঘুরতে গেলে তাঁর মন খারাপ হয়ে যায়। মোড়েও লোকজনের আনাগোনা কমে গেছে। পুঁজি ভেঙে খাচ্ছেন। তিনি জানান, এখানকার আট দোকানদারের অবস্থা শোচনীয়।
পিকনিট স্পটসংলগ্ন জইটকা পাড়ার বাসিন্দা মিঠু হাসদা জানান, শুধু শীত মৌসুমই নয়, বর্ষাকাল ছাড়া সারা বছরই এই বনে বহু মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকত। আর শীত মৌসুমে প্রতিদিনই বহু মানুষের পদচারণে মুখর থাকত বন। তবে কয়েক বছর ধরে রাতে বন থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ১৯৮৬ সালে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখানে বনের সৃষ্টি করে। ওই সময় যে পরিমাণ গাছ লাগানো হয়, তাঁর প্রায় অর্ধেকই কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এখানে যে তিনটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল, তা দু-তিন বছর ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে। দুটি টিনশেডের একটিও নেই। এ জন্যও পিকনিক স্পট হিসেবে আকর্ষণ হারিয়েছে বাবুডাইং।
বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, বাবুডাইং বনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএমডিএর নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকারি খাস টিলাগুলোতে কেবল বিএমডিএ গাছ লাগিয়েছিল। বেড়াতে আসা মানুষের সুবিধার্থে সেখানে শৌচাগার ও টিনের ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থায়নের অভাবে সেগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন