বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বেকারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার খরচের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা নিলেই হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সমাজ বিশ্লেষক

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এভাবে আবেদনের সুযোগ রেখে বেকারদের কাছ অনেক টাকা আদায় করা হচ্ছে। এনটিআরসিএ অসংখ্য আবেদনের সুযোগ রেখে প্রার্থীদের বেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে প্রলুব্ধ করছে বলে অভিযোগ করেন আরেক চাকরিপ্রার্থী আবদুল মালেক।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবার কেন আবেদন ফি দিতে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, সব যাচাই-বাছাই শেষে যাঁরা উত্তীর্ণ হন, তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ও মেধাতালিকার ভিত্তিতে পছন্দের ক্রমনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। এ জন্য আলাদা করে আর কোনো আবেদন ফি নেওয়া যাবে না।

এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অসংখ্য আবেদন করে আলোচিত হয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদীর শাহনাজ পারভীন। তিনি স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে ১ হাজার ২১৯টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন ফি, আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কোথাও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি।

আবেদনপ্রক্রিয়ার বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে বিসিএসের মতো একটি আবেদনের মাধ্যমেই বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খান। তিনি বলেন, এখানে সমস্যা হলো অনেক মামলা আছে। এসব জটিলতার কারণে পারা যায় না। তার পরও চেষ্টা করা হচ্ছে।

default-image

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে এই প্রক্রিয়া শুরুর পর মোট ১৬টি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়েছে। তাতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কতজনের চাকরি হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কারণ, ২০১৫ সাল পর্যন্ত এনটিআরসিএ নিয়োগের জন্য সুপারিশ করত না। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ২৮৯ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ। সামনে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অপেক্ষমাণ।

এনটিআরসিএর এমন আবেদনপ্রক্রিয়ার বিষয়ে সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, যারা যেখানে সুযোগ পাচ্ছে ঠকাচ্ছে। দেশে বেকারত্ব একটি সমস্যা। সবার উচিত বেকারদের সহযোগিতা করা। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা। বেকারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার খরচের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা নিলেই হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন