বগুড়ার কাহালু উপজেলায় উলট্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় বারান্দায় পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ শ শিক্ষার্থী রয়েছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর কারণে প্রতিটি শ্রেণিতে দুটি করে শাখার ব্যবস্থা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একসঙ্গে সব শ্রেণির পাঠদান শুরু হওয়ায় শিশু ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান বারান্দায় করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে টিনশেডে ছয়টি ও একটি পাকা ভবনে দুটি কক্ষ রয়েছে। টিনশেডের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা খারাপ। পাকা ভবনের একটি কক্ষে শিক্ষকেরা দাপ্তরিক কাজ চালান। কক্ষসংকটের কারণে বিদ্যালয়সংলগ্ন টি এন বালিকা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ নিয়ে ক্লাস করানো হয়। সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার কয়েক বছর ধরে শতভাগ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির একদল শিক্ষার্থী বারান্দায় ক্লাস করছে। ওই শ্রেণিতে ৮০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বারান্দায় ক্লাস করা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে নূর আম্বিয়া জানায়, স্যার বলেছেন, ওপরের ক্লাসে উঠলে ঘরে ক্লাস নেওয়া হবে। গরমের মধ্যে বারান্দায় ক্লাস করতে তেমন কষ্ট হবে না। কিন্তু শীতের সময় ঠান্ডা বাতাসে অনেক কষ্ট হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বলেন, বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার সময় বাচ্চারা অমনোযোগী হয়। দ্বিতীয় শ্রেণির ছেলে-মেয়েরা কথা শুনলেও শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কথা শুনতে চায় না। তা ছাড়া বর্ষায়, রোদে, ঠান্ডায় সব সময়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের ভালো ফলের জন্য এখানে ভর্তির চাপ বেশি। পাকা ভবনটি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি) অর্থায়নে ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয়। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কাহালু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষা কমিটির সভায় বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তায়েব আলী বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার বরাদ্দ না দেওয়ায় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন