সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে আদালত অবমাননার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাজার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা বলেছেন, এ রায়ের ফলে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সাংবাদিক, গবেষক, লেখকদের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের সুযোগ সংকুচিত হবে।
গতকাল শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে আদালত অবমাননায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ না থাকায় বিশিষ্ট নাগরিকেরা হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, আপিলের অধিকার আইনের শাসন এবং সুষ্ঠু ন্যায়বিচারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, আদালত অবমাননার এমন সংকীর্ণ আইন সংস্কার ও সংশোধন করার জন্য। এ ধরনের আইন কেবল ঔপনিবেশিক শাসনের একটি অবশিষ্টাংশই নয় বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনারও পরিপন্থী।’
বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যাসহ অন্যান্য অপরাধ করেছিল, তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। কিন্তু আমরা একই সঙ্গে বিশ্বাস করি, এসব অপরাধের জবাবদিহির প্রক্রিয়া হওয়া উচিত সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে। জবাবদিহির এই মান অর্জন করা সম্ভব কেবল একটি উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ডেভিড বার্গম্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিহত এবং আহতদের সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন গবেষণার বিষয়ে তাঁর ব্লগে দুই বছর আগে আলোকপাত করেন। ওই সময় ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর, তদন্তকারী সংস্থার প্রধান এবং একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্যদের কাছে তা পাঠানো হয়। তখন তাঁরা কোনো আপত্তি করেননি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং রাজাকার দ্বারা গণহত্যায় নিহতদের সংখ্যার তারতম্যের ফলে একাত্তরে সংঘটিত ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের সত্যতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হয় না। বার্গম্যানের মন্তব্যে এ ধরনের কোনো চেষ্টা আদৌ পরিলক্ষিত হয় না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নাগরিকদের মধ্যে আছেন এম হাফিজউদ্দিন খান, শাহদীন মালিক, রাশেদা কে চৌধূরী, খুশী কবির, আলী রীয়াজ, ইমতিয়াজ আহমেদ, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বদিউল আলম মজুমদার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সি আর আবরার, আনু মুহাম্মদ, আসিফ নজরুল, তাহমিমা আনাম, মো. নূর খান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0