ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলাম মাস খানেক আগে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বাতাসে তাঁর চোখে বালুকণা ঢুকে পড়ে। চোখে শুরু হয় যন্ত্রণা। এরপর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেও চোখ সম্পূর্ণ ভালো হয়নি তাঁর। এখনো চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
একইভাবে মডার্নপাড়ার মানোয়ার হোসেনের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ফারহানা ইজাহানের চোখেও বালুকণা ঢুকেছিল দুই বছর আগে। এ পর্যন্ত তার চোখের চিকিৎসায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ ভালো হয়নি।
এই অবস্থা শুধু মনিরুল ও ফারহানার নয়, অসংখ্য পথচারীরও। কারণ, ঝিনাইদহ এলাকার সড়ক-মহাসড়কের ধারে যত্রতত্র বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। খুচরা বিক্রির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। এ বালু বাতাসে পথচারীদের চোখে ঢুকছে।
চক্ষুবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত চোখের কর্নিয়ার ওপর বালু পড়লে মানুষ যন্ত্রণায় হাত দিয়ে চোখ কচলাতে থাকে। এতে বালুকণা কর্নিয়ার ওপর গেঁথে যায়। চোখে মারাত্মক সমস্যা হয়। অনেক সময় চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সম্প্রতি খুচরা বালু বিক্রি অনেক বেড়েছে। ঝিনাইদহ শহর থেকে বারোবাজার পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার মহাসড়কে কমপক্ষে ৪৫টি স্থানে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। একইভাবে ঝিনাইদহ থেকে শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত ৩২টি স্থানে বালু রেখেছেন বিক্রেতারা। ঝিনাইদহ থেকে সাধুহাটি, ঝিনাইদহ থেকে হাটগোপালপুর পর্যন্ত মহাসড়কেও একই অবস্থা। এই মহাসড়ক ছাড়াও বিভিন্ন সড়কে বালু রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য, যা বাতাসে পথচারীদের চোখে ঢুকে পড়ছে। সড়কে গাড়ি চললেই পথচারীদের চোখ ঢাকতে হয়। হামদহ, কালীগঞ্জ উপজেলার মেইন বাসস্ট্যান্ড, কোটচাঁদপুর শহরের বলুহর বাসস্ট্যান্ড, ভাটই বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন শহরে বালুর অনেক স্তূপ দেখা গেছে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার পরও তাঁর চোখে বালু গেঁথে যাওয়া স্থানে ক্ষত রয়ে গেছে। সেখানে সংক্রমণ হওয়ায় চোখ দিয়ে মাঝেমধ্যে পানি ঝরছে। আর মানোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর মেয়ের চোখের অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন। ভারতে নিয়ে গেছেন কয়েক দফা। এখনো তার চোখ ভালো হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বালুবিক্রেতা বলেন, সবাই এভাবেই খুচরা বালু বিক্রি করছেন। এটা দেখে তিনিও রাস্তার পাশে বালু রেখেছেন। রাস্তার পাশে না রাখলে ক্রেতা পাওয়া যায় না। তবে ক্ষতির বিষয়টি তিনি জানতেন না বলে জানান।
ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতালের চক্ষুবিশেষজ্ঞ আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে চোখে বালু ঢোকা রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই দু-তিনজন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বালু খুবই ধারালো। চোখে ঢোকার পর কচলা দিলেই কর্নিয়ায় গেঁথে যায়, যা থেকে ক্ষত এমনকি সংক্রমণ হয়ে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এতে অনেক সময় স্থায়ীভাবে চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওদের বিষয়টি দেখার জন্য বলা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন