বাল্যবিবাহের কারণে ৪৫ ছাত্রী পরীক্ষায় বসছে না!

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় ৫২ জন ছাত্রী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে শুধু বাল্যবিবাহের কারণেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না ৪৫ জন ছাত্রী। অপর ৭ জন অসুস্থ ও দারিদ্র্যের কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত বলে অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাল্যবিবাহের কারণে প্রায় ৪৫ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। এ চিত্র যে এতটা প্রকট, তা এত দিন আমাদের মনে হয়নি। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যালয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়। এ বিষয়ে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।’
পাথরঘাটায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও প্রজননস্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা মেরী স্টোপস। ওই সংস্থার পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হান্নান খান বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, এইচকেবি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শ্রেণিতে ১২ জন ছাত্রী বিবাহিত। একই সঙ্গে তাফালবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাল্যবিবাহ হয়েছে ১৩ জন ছাত্রী ও ১ ছাত্রের। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি।
হাড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার মিত্র বলেন, শ্রেণিকক্ষে বাল্যবিবাহে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে ছাত্রছাত্রীদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস ও সংস্থার আয়োজনে সচেতনতামূলক সভা করা হয়। এরপরও প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহ হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে অন্তত ২৫ জন ছাত্রী রয়েছে, যাদের বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দারিদ্র্যের পাশাপাশি বখাটের উৎপাত কম নয়।
উপজেলার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রধানেরা জানিয়েছেন, পাথরঘাটায় জেএসসির তিনটি ও জেডিসির দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৮৮৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২ হাজার ৭৮৯। দুই পরীক্ষায় ৯৬ জন ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ জন ছাত্র ও ৫২ জন ছাত্রী। কালমেঘা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির বলেন, এই বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন ছাত্রী জেএসসির ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭ জন। অপর ৮ জনের মধ্যে ৫ জনের বাল্যবিবাহ হয়েছে এবং ৩ জনের অভিভাবকদের ধারণা, তাঁদের মেয়ে বড় হয়েছে, তাই বিয়ে দেবেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা সুশীলন। ওই সংস্থার উপজেলা ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এইচকেবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের খবর শুনে আমরা প্রতিরোধে গিয়েছিলাম। তখন তার অভিভাবকেরা বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। পরে মেয়েটিকে পাশের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়।’
এ ব্যাপারে পাথরঘাটার ইউএনও মো. হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহের খবর পেলে দ্রুত প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।