default-image

ইটভাটার নারী ও শিশু শ্রমিকদের বাল্যবিবাহের কুফলসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক ক্লাব (এনপিসি) ও নারায়ণগঞ্জের নারী সাইকেল আরোহীদের সংগঠন নভেরা। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ডিক্রিচরে ইটভাটার শ্রমিকদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।

সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রমিকদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, মাস্ক, সাবান ও শিশুদের মাঝে নতুন জামা, কৃমিনাশক বড়ি, ব্রাশ ও টুথপেস্ট বিতরণ করা হয়। এনপিসির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ শাহরিয়ার, নভেরার প্রশিক্ষক আফরিন হিয়াসহ সংগঠন দুটির প্রায় ৫০ জন সদস্য কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও নভেরার প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা মৌসুমি ইটভাটার নারী শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, নারীদের শরীর ও মন ১৮ বছরের আগে বিয়ে এবং ২০ বছরের আগে সন্তান ধারণের উপযোগী হয় না। সুস্থ জীবন পেতে হলে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে এবং সন্তান ধারণকে না বলতে হবে। এতে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ সুন্দর জীবন পাবে।

মৌসুমির মতো এমন ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক ইটভাটার নারী ও শিশু শ্রমিকদের বাল্যবিবাহের কুফলসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা বিষয়ে সচেতন করেন।

আয়োজন নিয়ে জয় কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইটভাটাগুলোতে ছবি তুলতে গিয়ে দেখেছি সেখানকার শ্রমিকেরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে একবারেই অসচেতন।

তাঁদের মধ্যে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের হার অত্যন্ত বেশি। সেখান থেকেই এসব শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছি। নারী শ্রমিকদের সঙ্গে বাল্যবিবাহের কুফল, গর্ভকালীন ও মাতৃত্বকালীন সময়ে করণীয়, পিরিয়ডকালীন সুরক্ষার নিয়ম এবং করোনাকালীন সময়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের দাঁত ব্রাশ, হাত ধোয়া ও নিরাপদ পানি পান বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।’

এমন আয়োজনে খুশি শ্রমিকেরা। তাঁদেরই একজন ময়না বেগম। তিন বছর বয়সী ছেলে সাদিয়াকে কোলে নিয়ে বলেন, তাঁর মা–বাবা দুজনই ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন।

ইটভাটাতেই বেড়ে ওঠা। সেখানেই বিয়ে ও সংসার। পড়াশোনার সুযোগ না হওয়ায় কখনোই স্বাস্থ্য সুরক্ষার এসব বিষয়ে জানার সুযোগ হয়নি। এমন আয়োজনের ফলে নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন