বগুড়ার ধুনটে মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ করেছেন তার মা। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের বাবা তার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অবশেষে ২৬ ডিসেম্বর ওই মেয়ের মাকে তালাক দিয়েছেন তার বাবা।

এ ঘটনায় ওই মেয়ের মা গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেছেন। ইউএনও হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিয়ে বন্ধ করতে মেয়ের মা আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। খোঁজ নিয়ে বাল্যবিবাহের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিয়ে বন্ধসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্র জানায়, উপজেলার কাদাই গ্রামের জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে একই উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের পারুল খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে বড় মেয়ে (১২) কাদাই দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ অবস্থায় গত অক্টোবর মাসেপারুল খাতুনের অনুমতি ছাড়াই জিয়াউর রহমান তাঁর মেয়ের একই উপজেলার নিত্তিপতা গ্রামের নাদু মিয়ার ছেলে ফারুক হোসেনের (১৫) সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে কাবিননামা সম্পন্ন করেন। আগামী বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে তুলে দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ২৬ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমান তাঁর স্ত্রী পারুল খাতুনকে একতরফা তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। ফলে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে পারুল খাতুন তাঁর মেয়ের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।

পারুল খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ছে। সে ভালো ছাত্রী। বিয়ার বয়েস হয় নাই। তার পরও ওয়ার বাপ জোর করে বিয়া দিব। আমি বিয়া দিতে দিমু না। তাই ওয়ার বাপ আমারে মারধর কইরা বাড়ি থাইকা বাইর কইরা দিছে। আমি কয় দিন ধইরা বাপের বাড়িতে আছি। এখন শুনি আমারে তালাকও দিছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছে। এত ঝগড়ার মধ্যে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয় নাই। তাই বিয়ে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সেই সঙ্গে ওর (মেয়ে) মায়েকেও তালাক দিয়েছি। এভাবে সংসার করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন