বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জনবল পরিস্থিতি

দেশের ৬৪টি জেলায় মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ৪৭টি উপপরিচালকের পদ শূন্য। ৪৩০টি উপজেলার মধ্যে ৪১৬টিতে আছেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা। ফলে তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, এমনও ইউনিয়ন আছে, উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। একজন কর্মকর্তার অধীনে থাকে ১০ থেকে ১৫টি ইউনিয়ন। এমন অনেক এলাকা আছে রাত আটটার পর যানবাহন পাওয়া যায় না।

একজন উপপরিচালক জানালেন, তাঁর অফিসে ১৪ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী থাকার কথা। আছেন চারজন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘নিজের জেলার চলতি দায়িত্ব, সদর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দায়িত্বের কমতি নেই। তবে জনবল, টাকাপয়সা, যানবাহন—এসব ক্ষেত্রে আমরা হলাম নিধিরাম সরদার।’ তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন, তবে আঙুল তোলা হয় কেবল তাঁদের দিকে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের আওতায় ২০১৮ সালে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা করা হয়েছে। বিধিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটি ও জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আছে যাচাই কমিটি।

‘দিন দিন কঠিন হচ্ছে’

সম্প্রতি কয়েকজন উপপরিচালক ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা বলেন, বাল্যবিবাহ নিয়ে মানুষ এখন চালাকির আশ্রয় নেয়। বেশির ভাগই বিয়ের আয়োজন করা হয় রাতে এবং শুক্র-শনিবার ছুটির দিনে। মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সে বসেও বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। বিয়ে নিবন্ধন হলেও ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করা হয়। অনেক জায়গায় কাজিরা দুটি বই রাখেন, একটাতে থাকে প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের তথ্য, আরেকটাতে থাকে বাল্যবিবাহের তথ্য। সেটি গোপন রাখা হয়। ফলে বাল্যবিবাহ বন্ধের বিষয়টি জটিল হচ্ছে দিন দিন।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে কারও কারও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বললেন, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়েছি, তখন বর ও কনের মানুষজন বলতে শুরু করেন, আপনি নিজে বিয়ে করেন নাই, তাই আমাদের মেয়ের বিয়ে ভাঙতে আসছেন।’ অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ সহায়তা করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই পর্যাপ্ত থাকতে হবে। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

সমাধানে চেষ্টা চলছে

কমিটিগুলোর কাজের জন্য জাতীয় কমিটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা কমিটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে বরাদ্দ বাজেট থেকে এবং ইউনিয়ন কমিটি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় করতে পারে। তবে উপপরিচালক ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা কোনো বাজেট পান না।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম। তিনি টেলিফোনে বলেন, জনবলস্বল্পতা এবং মাঠপর্যায়ের নারী কর্মকর্তাদের যাতায়াতে যানবাহন না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। এসব সমাধানে চেষ্টা চলছে।

দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই

বাল্যবিবাহ নিরোধে নেওয়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সরকার চলতি বছরের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে শূন্যের কোঠায় নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ বেড়েছে, বিভিন্ন জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সুযোগ–সুবিধা অবশ্যই পর্যাপ্ত থাকতে হবে। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়টিও দেখতে হবে, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন