default-image

ছুটির দিনের সঙ্গে আজ মিশেছে উৎসবের বাসন্তী বাহার। টানা অবরোধের সঙ্গে পাঁচ দিনের হরতালের পর আজ অনেকেই পা রেখেছেন ঘরের বাইরে। নারীরা, বিশেষ করে তরুণীরা অনেকেই পরেছেন হলুদ শাড়ি। সাজগোজে আছে হলুদ গাঁদা ফুল। উজ্জ্বল রোদে কড়া ঝাঁঝে নাড়া দিচ্ছে পয়লা ফাল্গুন। 
রাজধানীর টিএসসি চত্বর আর বইমেলায় এক পাক ঘুরতেই বোঝা গেল, ফাগুন শুধু বনে বনেই নয়, এই নগর জীবনেও যাত্রা শুরু করেছে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও বসন্ত বরণের প্রধান উৎসব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায়। সকাল সাতটায় যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্তবরণ উৎসব। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বসন্তকে। অনুষ্ঠান চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একই জায়গায় হবে বসন্ত-বন্দনা অনুষ্ঠান। কলাভবনের সামনে বটতলায় সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ পরিবেশন করছে গান।
বসন্ত বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর। টিএসসি, মলচত্বর, কলাভবনের আশপাশের এলাকা, কার্জন হলসহ পুরো ক্যাম্পাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনের ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সে ভিড়ও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত নাজনীন। বন্ধুদের সঙ্গে তিনিও যোগ দিয়েছেন বসন্ত বরণের এ উৎসবে। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা। সিফাত বলেন, ‘আগে চুয়াডাঙ্গায় ছোট পরিবেশে বসন্ত উৎসব করেছি। এবার প্রথমবারের মতো দেশের মূল অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরেছি। খুব আনন্দ হচ্ছে।’
গাঁদা, গোলাপ ও গাজরাকলিসহ বিভিন্ন রকমের ফুল নিয়ে ব্যস্ত ঘোরাঘুরি করছেন ফুল বিক্রেতারা। বসন্তের এ দিনে অন্তত একটি ফুল না কিনলেই নয়। তাই ফুল বিক্রেতাদের কাছে লেগে আছে ভিড়। কেউ কিনছেন নিজের জন্য। কেউ কিনছেন ভালোবাসার মানুষটির জন্য।
নানা সাজে সাজা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবির ফ্রেমে বন্দী করে রাখছেন অনেকে। ‘সেলফি’ তুলে নিজেদের ছবির ফ্রেমে বন্দী করছেন অনেকে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান বলেন, ‘হরতালের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে কাটিয়েছি। একটু স্বস্তির জন্য, খোলামনে ঘোরার জন্য এই উৎসবে আসা।’

default-image
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন