ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক সরকারি কর্মকর্তাকে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) পরিয়ে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, এমন সন্দেহে আখাউড়া উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাকে আজ দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই কর্মকর্তা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এই উপজেলাতেই অবস্থান করছিলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ওই কর্মকর্তার বাড়িতে লাল পতাকা টাঙানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২১ মার্চ আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই কর্মকর্তা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে বাজার ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে যান। বাজার থেকে ফেরার পর তিনিসহ দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে ঢাকায় চলে যান। আর এই কর্মকর্তা ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ না করেই ২৭ মার্চ আখাউড়া থেকে মোটরসাইকেলে করে বাঞ্ছারামপুরে নিজের বাড়িতে চলে যান। গত শনিবার থেকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। সঙ্গে কাশিও হয়। বিষয়টি তিনি আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান।

গতকাল বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন ওই কর্মকর্তার বাড়িতে যান। তাঁকে ও তাঁর বাবাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গ্রামপুলিশ তাঁর বাড়ির উঠানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়।

ওই কর্মকর্তার বড় ভাই বলেন, আখাউড়ায় মেসে খাওয়ার সমস্যার কারণে তাঁর ভাই বাড়িতে চলে আসেন। তাঁর দাবি, তাঁর ভাই সুস্থ আছেন।

বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও নাছির উদ্দিন সরোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ওই কর্মকর্তা, অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে পিপিই পরিয়ে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'আখাউড়ায় তাঁকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছিল বলে শুনেছি। কিন্তু তিনি তা না মেনে সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুরে বাড়িতে চলে আসেন।'

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0