default-image

কেবল ব্যক্তিস্বার্থে বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে মেরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর অর্থসম্পদ রক্ষা করতে চান। আর জামায়াতে ইসলামী মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়।
গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তরীকত ফেডারেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বিদেশ থেকে এতিমের নামে টাকা এনে একটি পয়সাও তাদের দেননি। এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁর নামে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু উনি বিচারের সম্মুখীন হতে ভয় পান। তাঁর সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে মামলার মুখোমুখি হতেন।’ তিনি বলেন, চুরির টাকা রক্ষা করতেই তিনি মানুষ পুড়িয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চান। এভাবে মানুষ পুড়িয়ে তারা কী অর্জন করেছে। তারা কাদের স্বার্থ হাসিল করবে। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশ থেকে দুর্বৃত্তদের উৎখাত করবে।
বাংলাদেশের চলমান সহিংস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের যখন সার্বিক উন্নতি হচ্ছে, ঠিক সেই সময় কেন এই তাণ্ডব। এই যে মানুষের কান্না, কষ্ট, মানুষের ব্যথা-বেদনা তাদের মনে কি নাড়া দেয় না?’ তিনি বলেন, ‘তারা ইসলাম ধর্মের নামে রাজনীতি করে কীভাবে একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে এভাবে পুড়িয়ে হত্যা করে।’
বিএনপি-জামায়াত সত্যিই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে কি না, এই প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পেট্রলবোমা দিয়ে নারী-শিশুনির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এ রকম দেখে কি মনে হয়, এরা সত্যিই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে? সবচেয়ে কষ্ট লাগে ওই ধর্মের নাম নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট রাজনীতি করে। আবার তাদের হাত থেকে আমাদের মসজিদও রেহাই পায় না। পবিত্র কোরআন শিরফ পোড়ায়। ইজতেমার সময় তারা অবরোধ দেয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইসলামের নামে, আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকাতে জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে তো বিচারকাজ একরকম। এটা যদি কোনো ইসলামি দেশে হতো তবে তাদের শিরশ্ছেদ করা হতো। প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে বলে তারা আপিল করারও সুযোগ পাচ্ছে।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন