বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপি জোট ছাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসীর আলী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দলে মজলিশে শুরার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনা করে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করব।’

আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর পুরানা পল্টনের সীগাল রেস্টুরেন্টে খেলাফতের মজলিশে শুরার বৈঠক হবে। সারা দেশের সব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মজলিশে শুরার প্রায় দুই শ সদস্যকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বিকেল চারটায় সেখানেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

খেলাফত মজলিস ২০-দলীয় জোটে থাকা একমাত্র নিবন্ধিত ইসলামি দল। এর বাইরে যে কয়টি ইসলামি দল জোটে আছে, সেগুলো মূলত এর আগে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলোর খণ্ডিত অংশ। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট (আবদুর রকিব) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (মনসুরুল হাসান) আরেকটি অংশ ২০-দলীয় জোটে থাকলেও তাদের নিবন্ধন নেই।

এখন মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসও জোট ছাড়তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ১৪ জুলাই বিএনপি জোট ছাড়ে কওমি আলেমদের পুরোনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির নেতারা ওই দিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার কয়েক ঘণ্টা পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপি–জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় জমিয়তের ৬০ জন নেতা-কর্মী আসামি হন। এ পরিস্থিতি দলটিকে জোট ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়। যদিও জোট ছাড়ার পর জমিয়তসহ সব দলই বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অবহেলার’ অভিযোগ করেছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় গত ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন। তাঁকে মুক্ত করতে দলের কেউ কেউ বিএনপির জোট ছাড়ার কথা ভাবছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কারণ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দলটির নেতারা মুক্তি পান।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। তখন ইসলামী ঐক্যজোটের পাঁচটি শরিক দলের অন্যতম ছিল শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একপর্যায়ে শায়খুল হাদিস চারদলীয় জোট ছেড়ে গেলে একাংশ থেকে যায়, তারা খেলাফত মজলিস নামে নতুন দল গঠন করে নিবন্ধন নেয়।

উগ্রবাদ সমর্থক বলে প্রয়াত শায়খুল হাদিস আজিজুল হক ও মুফতি ফজলুল হক আমিনীর বিষয়ে একসময় প্রচার ছিল। আমিনীর দল ইসলামী ঐক্যজোট ২০১৬ সালে বিএনপি জোট ছেড়ে যায়। আর শায়খুল হাদিসের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ে তারও আগে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও বিএনপির সম্পর্ক এখন সাবলীল নয়।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোট ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু দল হতাশায়, কিছু দল চাপে পড়ে জোট ছাড়ছে। এভাবে কিছু দল যাবে, কিছু দল থাকবে। যারা থাকবে, তাদের নিয়েই কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন