ফেনীর পরশুরামে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির ডাকা হরতাল চলাকালে সড়কে মহড়া দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। এ সময় বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
সকালে হরতাল-সমর্থকেরা সিএনজিচালিত দুটি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত দুটি ইজিবাইক (টমটম) ভাঙচুর করেন। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ গত সোমবারের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ সোমবার রাতে ছাত্রদলের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই দিন পরশুরাম উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু তালেব ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন মজুমদার আহত হন এবং স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ, বিএনপি-আওয়ামী লীগের কর্মীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে ফেনী জেলা বিএনপি গতকাল পরশুরাম উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফুলগাজী ও ফেনী থেকে সাত-আটটি মাইক্রোবাসে করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কিছু কর্মী পরশুরামে পৌঁছান এবং তাঁরা উপজেলা সদরে মহড়া দিতে থাকেন। তাঁরা বাঁশপদুয়া এলাকায় পরশুরাম পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলামকে (৫৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। তাঁকে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরশুরাম মডেল থানার উপপরিদর্শক বদরুল কবির জানান, সোমবারের সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিনটিসহ মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ রাতে ছাত্রদলের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। সকাল থেকে উপজেলায় শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন পরশুরামে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীদের সশস্ত্র মহড়া এবং বিএনপির নেতা নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করার তীব্র নিন্দা জানান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন