default-image

পুড়ে যাওয়া রোগীদের জন্য আজ রোববার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চালু হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট বার্ন ইউনিট। সকাল নয়টার দিকে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকের নিচতলায় এ ইউনিটের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। খবর বাসসের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে আলাদা আলাদা কক্ষে একটি করে বেড রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের সব রকম প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।

উপাচার্য বলেন, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পোড়া বা দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো বার্ন ইউনিট চালু হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ সহিদুল্লা, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. রুহুল আমিন মিয়া, সহ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল মজিদ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ও সমন্বয়কারী (বার্ন ইউনিট) মো. নাজমুল করিম প্রমুখ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিএসএমএমইউয়ের বার্ন ইউনিটে পোড়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে। তারা তিনটি শিফটে সার্বক্ষণিক দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবে। প্রাথমিকভাবে বেডের সংখ্যা ১০ হলেও রোগীর চাহিদা অনুসারে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

প্রায় ১৬ কোটি মানুষের দেশে আগুনে পোড়া রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার কেন্দ্র আছে মাত্র একটি। এটি হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। ফলে রোগীদের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে এই ইউনিটকে।

একপর্যায়ে সরকারের নির্দেশনায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা হয়। অপ্রতুল দক্ষ জনবল ও সুবিধা নিয়ে এগুলো চালু হয়। চালুর অল্প দিন পর দিনাজপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহের ইউনিট জনবলের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আর বাকিগুলোতে জনবল ও চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল। তাই এগুলো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। গুরুতর দগ্ধ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। এতে স্থানান্তরকালীন রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

default-image
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন