বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গতকাল রোববার ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট চালু হয়েছে। এখন থেকে এ ইউনিটে দগ্ধ রোগীরা বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এই বার্ন ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ও পোড়া বা দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বার্ন ইউনিট চালু করা হয়েছে। বিএসএমএমইউতে দগ্ধ রোগীরা বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আলাদা আলাদা কক্ষে রোগীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে এবং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, বার্ন ইউনিটে পোড়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের একটি দল কাজ করবে। দলটি তিনটি পালায় সার্বক্ষণিক দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবে।
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ও বিএসএমএমইউর অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) মো. নাজমুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিএসএমএমইউর বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ যে কেউ যখন-তখন সেবা পাবেন। তবে ভর্তির সুযোগ থাকছে ১০ জনের। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিটটিতে যাঁরা কাজ করবেন তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন।
গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ সহিদুল্লা, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. রুহুল আমিন মিয়া, সহ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, পরিচালক মো. আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া প্রমুখ।
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৫৯ জন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গতকাল চিকিৎসাধীন ছিলেন পেট্রলবোমায় দগ্ধ ৫৯ জন। এঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। এঁদের একজন গাজীপুরে বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ শিশু মরিয়ম। বাকি তিনজন হলেন যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলায় দগ্ধ জাহাঙ্গীর, বনশ্রীতে দগ্ধ বাসচালকের সহকারী বাপ্পী ও নরসিংদীর জাহিদ।
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট থেকে চিকিৎসা নিয়ে গতকাল পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছেন ৭২ জন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন