default-image

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত লোহার সেতুটি বিকট শব্দে ভেঙে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এ সময় সেতুর ওপরে থাকা শহিদুল হক ও রুহুল আমিন মৃধা নামের দুজন খালে পড়ে আহত হয়েছেন। পরে তাঁরা সাঁতরে পাড়ে ওঠেন।

সেতুটি ভেঙে পড়ায় কলাপাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে মজিদপুর, ফরিদগঞ্জ, পূর্ব সোনাতলা, বাইনতলা, ছোট কুমিরমারা, বড় কুমিরমারা, এলেমপুরসহ আট গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। এদিকে সেতু ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা পারভিন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. দেলওয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাখিমারা খালের ওপর দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ১২ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করেছে।

দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া স্থানীয় কৃষক রুহুল আমিন মৃধা জানান, পাখিমারা বাজার থেকে কুমিরমারা গ্রামের বাড়িতে সেতু পার হয়ে তিনি ফিরছিলেন। সেতুর মাঝ বরাবর আসার পর হঠাৎ বিকট শব্দ করে সেতুর পূর্ব পাড়ের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে যায়। এতে তিনিও ভাঙা অংশের সঙ্গে পানিতে পড়ে যান। খালে প্রচণ্ড স্রোত ও কচুরিপানা থাকায় প্রায় ১০ মিনিট অন্ধকারে পানিতে হাবুডুবু খাওয়ার পর তিনি পাড়ে উঠতে সক্ষম হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির প্রায় ২৪০ ফুট অংশ ভেঙে খালে পড়ে তলিয়ে রয়েছে। পুরো এলাকার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সেতু ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সবজিচাষিরা। কারণ, এ সেতু দিয়েই স্থানীয় সবজিচাষিরা বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারজাত করে থাকেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া এলাকার একটি পুরোনো সেতুর মাল খুলে এনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতু নির্মাণের সময় খালে ঠিকভাবে লোহার খুঁটিগুলো পোঁতা হয়নি। লাগানো হয়নি খুঁটির সঙ্গে আড়াআড়ি লোহার অ্যাঙ্গেল। যার কারণে সেতুতে মানুষ চলাচল করলেই দুলতে থাকত।

default-image

স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ বায়েজিদ, মো. ইমরান হোসেন ও তাসলিমা বেগম জানান, সেতুটি পার হয়ে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ, কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ, নাওভাঙ্গা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, নাওভাঙ্গা ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, পাখিমারা পিভি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আট থেকে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকেন। ভোগান্তি লাঘব করতে দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা দরকার।

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ জানান, এ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা উপজেলা প্রশাসনকে এর আগে জানানো হয়েছে। এখন সেতুটি ভেঙে পড়ায় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. দেলওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে জানান, পাখিমারা খালে আগে ছিল কাঠের পুল। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে ছয় বছর আগে একটি পুরোনো লোহার সেতুর মালামাল দিয়ে ওই খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেই সেতু ভেঙে গেছে। কলাপাড়া উপজেলায় আরও কয়েকটি লোহার ভেঙে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রয়েছে। সেসব সেতু মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাখিমারা খালের ভেঙে পড়া সেতুটিও দ্রুত নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0