বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই দিন রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছিলেন, ‘৭২ ঘণ্টার পর যেহেতু কোনো কিছু পাওয়া যায় না, আমাদের এই মামলা তো ১ মাস ৮ দিন পর করেছে, ৭২ ঘণ্টা পর এই রিপোর্ট যদি কেউ করে, সেখানে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পুলিশকে এসব মামলার ব্যাপারে সজাগ হওয়ার জন্য বা না নেওয়ার জন্য মাননীয় আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।’ একই বক্তব্য দিয়েছিলেন আসামিপক্ষের অপর আইনজীবী এ বি এম খায়রুল ইসলাম লিটন।

তবে গতকাল নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে মামলা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়। মামলা কেন নেবে না? কখনো কখনো তো মেডিকেল (স্বাস্থ্য পরীক্ষা) পরীক্ষারই প্রয়োজন পড়ে না। আমি একটা আলোচনা শুনছিলাম। ধারণা থেকে বলেছি (ওই দিনের বক্তব্য)।’

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিচারক কী বলেছেন, সেটা আদালতের সবাই কমবেশি শুনেছেন। আমরা মামলাটার এই অবস্থা দেখে আমি তখন একটু বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম।’ এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ প্রথম আলোকে বলেছেন, বিচারক একটি সুপারিশ রাখার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি বলেননি, একটু অন্যভাবে বলেছিলেন।

আফরোজা ফারহানা আহমেদ বলেন, ‘উনার (বিচারক) বক্তব্যটা ছিল এই ধরনের অ্যাডাল্ট (বয়স্ক) ভিকটিমদের (ভুক্তভোগী) ক্ষেত্রে যদি ৭২ ঘণ্টার ভেতরে ডাক্তারদের ভাষ্যমতে এক্সামিন (পরীক্ষা) করা হয়, সে ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় এবং আসামির সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচ হয়। সে ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের হাতে প্রমাণ থাকে, মামলাটা প্রমাণ করা সহজ হয়। যদি তা না থাকে, তাহলে যদি পারিপার্শ্বিক এভিডেন্স (সাক্ষ্য) থাকে, তাহলেও প্রমাণ করা যায়। আর অ্যাডাল্ট ভিকটিমদের ক্ষেত্রে যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এক্সামিন না হয়, ডিএনএ প্রমাণ না পাওয়া যায়, যদি পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য না থাকে, যদি কিছুই না থাকে প্রমাণ করার মতো, তাহলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়—এ রকম একটি সুপারিশ আমি আমার জাজমেন্টে রাখব।’

রায়ের পর বিচারকের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা একে সংবিধান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী আখ্যায়িত করেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও বলেন, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারক সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করেছেন।

পরে বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারকে বিচারকাজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তিনি কেন ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন