বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিয়োগপ্রাপ্ত চার বিচারপতি হলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে নতুন তিন বিচারপতিকে পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তবে অসুস্থ থাকায় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান শপথ নিতে পারেননি। নতুন তিন বিচারপতির নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াল সাত।

শপথ গ্রহণের পর নতুন তিন বিচারপতির কর্মময় জীবন তুলে ধরে পর্যায়ক্রমে সংবর্ধনা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, নতুন তিন বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। তবে ছুটিতে থাকায় অনুষ্ঠানে ছিলেন না আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।

default-image


বার ও বেঞ্চকে একযোগে কাজ করতে হবে

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বার ও বেঞ্চ একে অন্যের পরিপূরক। নানা আলোচনা সত্ত্বেও নিপীড়িত মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এ অঙ্গন। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বার ও বেঞ্চকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ২০০৮ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

default-image

‘শপথের প্রতিটি শব্দ শরীরে, অস্থিমজ্জায় ও রক্তে একীভূত করে ফেলতে হবে’
বিচারপতি হিসেবে শপথ পাঠই শেষ কথা নয় উল্লেখ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম সংবর্ধনায় বলেন, ‘শপথের প্রতিটি শব্দ শরীরে, অস্থিমজ্জায় ও রক্তে একীভূত করে ফেলতে হবে। আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব শপথের যথাযথ চর্চা ও লালন করতে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন ব্যতীত বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষণ ও দেশের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব নয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মননে ও মগজে না রেখে সংবিধান ব্যাখ্যা করলে সিদ্ধান্ত ভুল হওয়াই স্বাভাবিক।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আরও বলেন, ‘দেশের আপামর মানুষের বিচার বিভাগের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি। সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের প্রতিটি আদালত মামলার ভারে ভারাক্রান্ত। বিচারক ও আইনজীবীদের এ ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব আছে। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি তাঁর সংবর্ধনায় আইনজীবীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আমরা এই ভার লাঘবে সচেষ্ট থাকি। তিনি বিচারাঙ্গনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অবস্থানের কথা ঘোষণা দিয়েছেন ইতিমধ্যে, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। আসুন, সবাই মিলে আমরা আমাদের বিচারাঙ্গনকে কলুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য যথাযথ ভূমিকা পালন করি। এ ক্ষেত্রে বারেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন অপরিহার্য।’
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

default-image

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হব’
সংবর্ধনায় বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজ যে শপথ আমি নিয়েছি, সে শপথ সুষ্ঠুভাবে রক্ষায় আপনাদের সহযোগিতা পাব। প্রধান বিচারপতি দ্ব্যর্থ ভাষায় এ অঙ্গন থেকে দুর্নীতি দূর করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, নিশ্চয়ই আমরা তাঁর সাথি হব এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হব।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুনসেফ হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর জেলা ও দায়রা হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারকের দায়িত্ব পান। আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় নারী বিচারপতি তিনি।

default-image

অসুস্থ বিচারপতি নাজমুল আহাসান শপথ নিতে পারেননি
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। সংবর্ধনায় জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।
এদিকে সংবর্ধনার পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁদের মধ্যে নবনিযুক্ত তিন বিচারপতিও ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন