প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গতকাল শনিবার এক কর্মশালায় বলেছেন, প্রয়োজন পড়লে বিচার বিভাগের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে অবৈধ বা দায়িত্বহীন সমালোচনা বিচার বিভাগের জন্য অপরিমেয় ক্ষতি বয়ে আনবে।
একই কর্মশালায় বিচার বিভাগ পৃথক্করণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য এটা প্রয়োজন।
‘ডিজিটালাইজেশন অব বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি’ শীর্ষক কর্মশালায় গতকাল প্রধান বিচারপতি ও অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করেন সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য সন্তুষ্টির বিষয় যে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বেশির ভাগ মানুষ বিচার বিভাগের ওপর উঁচু ধারণা পোষণ করেন। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন।’
মামলাজট কমাতে বিচার বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অল্প খরচে বিচার বিভাগের জন্য উপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমার মনে হয়, মাসদার হোসেন মামলার রায় পুনর্বিবেচনা হওয়া উচিত। মানুষের অধিকার যাতে সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়, এ জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে অপরের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকতে হবে।’
২০০৭ সালে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়।
প্রায় ২৭ থেকে ৩০ লাখ মামলার জট কমিয়ে আনার জন্য বিচার বিভাগকে অবশ্যই প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিচার বিভাগের উন্নয়নে প্রধান বিচারপতির নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর সঙ্গে একমত জানান তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ বলেন, ‘আমরা দেশের সব জেলা আদালত ও বিচার বিভাগীয় কার্যালয় অভিন্ন নেটওয়ার্কের অধীনে আনার পরিকল্পনা করছি।’
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, প্রযুক্তি বিভিন্ন উপায়ে সমাজের রূপান্তর ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার একে আরও জনবান্ধব করে তুলবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সরকারের ঊর্ধ্বতন ও ইউএনডিপির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0