বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ১২ জনকে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ও গত বুধবার—দুই দিনে নিয়োগপ্রাপ্তরা কলেজে যোগ দিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় এই ১২ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর সময় আপত্তি তুলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সে আপত্তি উপেক্ষা করে নিয়োগ চূড়ান্ত করে কর্তৃপক্ষ।
নিয়োগ পাওয়া ১২ জনের মধ্যে ৩ জন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ পারভেজ ও ছাত্রলীগের কর্মী অনুপম রুদ্র। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতার সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
এ নিয়ে গত ২ জুন প্রথম আলোতে ‘বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরের দিন ইউজিসি চিঠি পাঠিয়ে বলে, তাদের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো পর্যায়ের নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
সূত্র জানায়, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ কমিটিতে সভাপতি ছিলেন উপাচার্য শিরীণ আখতার। এ ছাড়া কমিটিতে আরও ছিলেন রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান, প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ও কলেজের অধ্যক্ষ শামসাদ বেগম চৌধুরী।
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য শিরীণ আখতারের মুঠোফোনে কল করলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. শাহাবুদ্দিন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, উপাচার্য মহোদয় বাংলা একাডেমির সঙ্গে মিটিংয়ে আছেন। কথা বলা সম্ভব হবে না। অবশ্য নিয়োগ কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করতে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ নিয়োগকে নৈতিকতাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা মেনে চলা উচিত। এ ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়ার পর ইউজিসির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো নানাভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যাখ্যা দেয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।