default-image

দুটি বইয়ের স্বত্ব নিয়ে বিতর্কে বঙ্গবন্ধু কর্নারে বই দেওয়া আটকে গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত মে মাসে আটটি বইয়ের সোয়া পাঁচ লাখ কপি বই কিনেছিল। বইগুলো এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মিরপুরের কার্যালয়ে পড়ে আছে।

আটটি বইয়ের তিনটি কেনা হয়েছে নাজমুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। নাজমুল বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদক। তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ তিনটি বই কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২১ কোটি টাকা, যা বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য কেনা আটটি বইয়ের মোট দামের ৭৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুটি বইয়ের স্বত্ব পরিবর্তন করেছেন। এর বাইরেও মৌলিক বই না কেনা, প্রখ্যাত লেখকদের বই বাদ দেওয়া ও বেশি দামে কেনার অভিযোগও রয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছিল, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে সরকারি উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই কিনে দেবে সরকার। শিশুরা ওই সব বই পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানবে। শিক্ষকেরাও পড়ার সুযোগ পাবেন। এ জন্য গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) ১৫০ কোটি টাকা বাজেট করে মন্ত্রণালয়। কেনার জন্য ৪০টি বইয়ের তালিকা করা হয়। প্রাথমিকভাবে আটটি বই কেনা হয়; প্রতিটি ৬৫ হাজার ৭০০ কপি করে। যার দাম ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। তবে বিতর্ক ওঠা বই দুটির টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পড়ে থাকা বিপুলসংখ্যক বইয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, শেষ পর্যন্ত অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এ ঘটনায় তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির প্রধান আলমগীর নূর মোহাম্মদ মুনসুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অখ্যাত প্রতিষ্ঠান ও অখ্যাত লেখকের কাছ থেকে এমন বই কেনার সমালোচনা করেছেন কয়েকজন গবেষক ও লেখক। তাঁরা বলেন, শিশুরা যাতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পায়, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য যেসব বই কেনা হচ্ছে, তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা বঙ্গবন্ধু কর্নারের বইয়ের তালিকা ঠিক করছেন, তাঁরা কেউ লেখক বা গবেষক নন। বইগুলোর অধিকাংশ গবেষণাভিত্তিক বা মৌলিক বই না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ওপর অনেক ভালো বই আছে। শেখ হাসিনা রচিত ১৪ খণ্ডের সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বইটি একটি সেরা বই। মুনতাসীর মামুনের নিজেরও বঙ্গবন্ধুর ওপর বহু খণ্ডের বই রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কর্নারে দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত আটটি বই কেনা হয়েছে। সেগুলো হলো ১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ২. বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, ৩. বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন নিয়ে ৩০৫৩ দিন, ৪. অমর শেখ রাসেল, ৫. ছোটদের বঙ্গবন্ধু, ৬. শেখ মুজিব আমার পিতা, ৭. বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ৮. শেখ হাসিনার নির্বাচিত উক্তি

এর মধ্যে সাংবাদিক নাজমুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন জার্নি মাল্টিমিডিয়া ও স্বাধীকা পাবলিকেশনসের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, ৩০৫৩ দিনঅমর শেখ রাসেল শিরোনামের বই তিনটি কেনা হয়। এতে সরকারের ব্যয় প্রায় ২১ কোটি টাকা। বাকি বইগুলো কেনা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকায়। নাজমুল জার্নি মাল্টিমিডিয়ার ৭০ শতাংশের অংশীদার। বাকিটা তাঁর স্ত্রীর। স্বাধীকা পাবলিকেশনসের বড় অংশীদার তাঁর স্ত্রী শারমীন সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

কোন বইয়ের কত দাম

যে আটটি বই কেনা হয়, তার একটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এটি সুধীসমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

ছোটদের বঙ্গবন্ধু বইয়ের লেখক মো. জাকির হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। বইটিতে যেসব তথ্য রয়েছে, তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। ১১২ পৃষ্ঠার এ বইয়ের প্রকাশক জিনিয়াস পাবলিকেশন; লিখিত দাম ৪৮০ টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা শেখ মুজিবুর রহমান আমার পিতা বইটির দাম ২৫০ টাকা। ১১১ পৃষ্ঠার বইটির প্রকাশক আগামী প্রকাশনী।

আবার পেপারব্যাকে শেখ হাসিনার নির্বাচিত উক্তি শীর্ষক ১৪০ পৃষ্ঠার বইয়ের দাম ৬৯৫ টাকা। এর লেখক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

জার্নি মাল্টিমিডিয়ার কাছ থেকে কেনা বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইটি মূলত ছবিভিত্তিক। বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি রয়েছে। ছবিগুলো সংগৃহীত। ৩২৪ পৃষ্ঠার বইটির দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। জার্নি মাল্টিমিডিয়ার কাছ থেকে কেনা দ্বিতীয় বই ৩০৫৩ দিন বঙ্গবন্ধু কবে, কোথায়, কীভাবে জেল খেটেছেন, তা নিয়ে তৈরি। ১৮৮ পৃষ্ঠার বইটির দাম ধরা হয়েছে ৮৫০ টাকা। স্বাধীকা পাবলিকেশন থেকে কেনা অমর শেখ রাসেল বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ১২৮। দাম ৫০০ টাকা। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ সম্পাদিত। বইটিতে শেখ রাসেলের জীবনের নানা ঘটনার ছোট ছোট বর্ণনা ও ছবি রয়েছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনকে অনেকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বই কেনা হচ্ছে বলে আমলাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই করছেন, এটা কল্পনাও করা যায় না। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত গবেষক। অথচ তাঁর কোনো বই কেনা হয়নি।

মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনকে অনেকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বই কেনা হচ্ছে বলে আমলাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই করছেন, এটা কল্পনাও করা যায় না।
শাহরিয়ার কবির, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
বিজ্ঞাপন

স্বত্ব পাল্টানোর অভিযোগ

জার্নি মাল্টিমিডিয়ার মালিক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তিনি বইয়ের স্বত্ব পরিবর্তন করেছেন। এ ছাড়া
বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইটির সম্পাদক অমিতাভ দেউরীর অভিযোগ, প্রথম সংস্করণে সম্পাদনা পর্ষদের সর্বশেষ সদস্য ছিলেন নাজমুল হোসেন। কিন্তু তিনি (নাজমুল) পরবর্তী সংস্করণে প্রধান গবেষক হিসেবে নিজের পরিচয় লিখেছেন। অথচ তিনি তা নন।

অমিতাভ দেউরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে প্রিন্টার্স লাইনে প্রধান গবেষক হিসেবে নাজমুল হোসেন নিজের নাম দিয়েছেন। এটি তিনি করতে পারেন না। আমি কপিরাইট অফিসে অভিযোগ জানিয়েছি, প্রয়োজনে মামলা করব।’ তিনি বলেন, বইয়ের সম্পাদক হিসেবে তাঁকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।

জার্নি, জার্নি পাবলিকেশন ও জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড নামে পৃথক তিনটি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে জার্নি একটি সামাজিক সংগঠন। জার্নি পাবলিকেশন ও জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড বই প্রকাশ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। এই তিন প্রতিষ্ঠানেরই উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন।

জার্নি মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় অমিতাভ দেউরীকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছি। প্রমাণ আছে। অমিতাভ দেউরী ২০১৮ সালের ২০ মার্চ বইয়ের প্রিন্টার্স লাইনে সব ধরনের পরিবর্তন আনার অনুমতি আমাকে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াতেই আমাকে স্বত্ব দিয়েছে। কারণ, তারা বই প্রকাশের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করেনি এবং কোনো পাণ্ডুলিপিও তৈরি করেনি।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, বইটি ছাপাতে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো টাকা দিতে রাজি হয়নি। তাই প্রকাশনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বইটির পাণ্ডুলিপি জার্নি করেছে। বই ছাপাতে মন্ত্রণালয় এক টাকাও দেয়নি; উল্টো চুক্তি অনুযায়ী আমরা বইয়ের ২৩ শতাংশ রয়্যালটি পাব।’

বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা গ্রন্থের সম্পাদক অমিতাভ দেউরী কপিরাইট অফিসে করা আবেদনে দাবি করেছেন, তাঁর লেখকস্বত্ব নাজমুল নিজের নামে করে নিয়েছেন। অন্যদিকে নাজমুল দাবি করেছেন, বইটির প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক হিসেবে অমিতাভ দেউরী নাম থাকলেও কপিরাইট অফিস থেকে তাঁকে (নাজমুল) শতভাগ লেখকস্বত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিরোধ নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর এক দফা শুনানি হয়েছে। কপিরাইট অফিস কোনো নির্দেশনা এখনো দেয়নি।

এদিকে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ও শিক্ষকদের জন্য এই বইগুলো যাঁরা নির্বাচন করেছেন, তাঁরা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। ধারণা করি, কোনো অসাধু সিন্ডিকেটের কাজ এটি, যার সঙ্গে বৈষয়িক স্বার্থ জড়িত। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বাজারে ভালো বই যথেষ্ট রয়েছে। বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদদের দিয়ে গঠিত কমিটির মতামত নিয়ে সেখান থেকে বই নির্বাচন করা উচিত।’

বিজ্ঞাপন

যেভাবে পাল্টে গেল সম্পাদকের নাম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৮ সালে। সেখানে সম্পাদক ছিলেন অমিতাভ দেউরী। প্রকাশক ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বইটির প্রথম সংস্করণে পরিবেশক হিসেবে জার্নির লোগো মুদ্রিত হয়। জার্নি সম্পর্কে বইয়ে লেখা ছিল, এটি একটি অলাভজনক সংগঠন।

গত ৩ জুন জার্নি পাবলিকেশনকে বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইটি ছাপানো ও বিতরণের অনাপত্তিপত্র দেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার চার দিন আগেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইয়ের স্বত্ব ও প্রকাশনা ক্যাটাগরিতে আগের নাম পরিবর্তন করে জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের নাম দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা বইটির সম্পাদনা পর্ষদে রয়েছেন অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দীন আহমদ এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি তারিক হাসান ও নাজমুল হোসেন।

দ্বিতীয় সংস্করণে সম্পাদনা পরিষদে সবার নিচে থেকে সম্পাদকের নামের ওপরে প্রধান গবেষক হিসেবে নাজমুল হোসেনের নাম লেখা হয়। দ্বিতীয় সংস্করণের অর্থায়নে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়। তৃতীয় সংস্করণে প্রকাশক মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের স্থলে ‘সমন্বয়ক ও প্রকাশক’ হিসেবে ছাপা হয়েছে শারমীন সুলতানার নাম, যিনি নাজমুলের স্ত্রী। উপদেষ্টা হিসেবে লেখা হয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নাম।

একইভাবে ৩০৫৩ দিন বইটির প্রথম সংস্করণে প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের নাম ছিল। ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন একটি চিঠি দিয়ে ৩০৫৩ দিন বইটির কপিরাইট (গ্রন্থস্বত্ব) জার্নি পাবলিকেশনের নামে দেন। বলা হয়, বইটি ছাপানো ও প্রচারের দায়িত্ব তাদের। এরপর চলতি বছরের ৩১ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডকে বইয়ের স্বত্ব দিয়ে দাপ্তরিক অনুমোদনের চিঠি দেয় নাজমুলসহ সংশ্লিষ্টদের। সম্পাদক হিসেবে কারা অধিদপ্তরের স্থলে নাজমুল হোসেনের নাম দেওয়া হয়। এভাবে সরকারের প্রতিষ্ঠানের বইয়ের স্বত্ব অন্যকে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ জানান, এসব বই কেনার ক্ষেত্রে সরকারের ক্রয়নীতি অনুসরণ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশকদের কাছ থেকে বই আহ্বান করার কথা। সেখান থেকে বই নির্বাচন করবে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। অথচ মন্ত্রণালয় নিজেরা তালিকা করে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বই কিনেছে। অবিলম্বে এই তালিকা বাতিল করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল একটি কমিটির মাধ্যমে নতুন করে বই কেনার দাবি জানান তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0