দুই বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ওলানপাড়া প্রকাশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হয়। ওই মাসেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মানছুর আহমেদ, আজিমেল কদর ও মেরীনা হাসানাত পরিদর্শনে এসে ভবনের অবস্থা দেখে ওই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২০৬ জন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে।
১৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিম, দেয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। একটি কক্ষের ফাটল ও খসে পড়া পলেস্তারা কিছুটা মেরামত করে সেখানে শিক্ষকেরা বসেন ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আমেনা আক্তার ও রুবি আক্তার জানান, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে গিয়ে বাচ্চারা মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে ও বারান্দায় ক্লাস করতে দেখলে ভয়ে বুকটা কেঁপে ওঠে। এর পরও বিভিন্ন অসুবিধার কারণে সন্তানকে বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল ওহাব সরকার জানান, গত জানুয়ারি মাসে পাঠদানের সময় পলেস্তারা খসে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মামুন, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আলী আজগর ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া আহত হন। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখন মাঠে পাঠদান চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, জরাজীর্ণ ভবনের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা কমে গেছে।
ভবনে পাঠদান করতে গেলে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষকদেরও চিন্তায় থাকতে হয়। ফলে কোনো শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে বদলির আদেশের পর যোগদান না করে কাকুতি-মিনতি করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি ও সহকারী শিক্ষক মাকসুদা আক্তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দাপ্তরিক সব কার্যক্রম করছেন। অনেক চেষ্টার পরও বিদ্যালয় ভবনটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সভায় ওই বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের কথা বারবার অবহিত করছি। উপজেলা প্রশাসন আপাতত যেন সেখানে একটি টিনের ঘরের ব্যবস্থা করেন। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি করলে মৃত্যুর ভয়ে তাঁরা যোগদান করেন না।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন