চার বছর আগে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সুলতানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর এখনো তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শিশুরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ্ রুহুল আমীন বলেন, সম্প্রতি ক্লাস চলাকালীন পলেস্তারা খসে পড়ে শিক্ষিকা আশরাফুন্নাহার, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রতন, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মিল্লাত, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানিয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে স্কুলমাঠে ক্লাস করছে।
৮ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিম, দেয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা ধসে পড়ছে। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে অনেক আগেই। একটি কক্ষের ফাটল ও খসে পড়া পলেস্তারা কিছুটা মেরামত করে সেখানে শিক্ষকেরা বসেন। ভবনের দরজা-জানালা না থাকায় মেঝের ইটও রাতে তুলে নিচ্ছে চোরেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১০ সালেই উপজেলা শিক্ষা কমিটি ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৮৫ জন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জুয়েল রানা বলে, ‘ভবনের ভেতরে ক্লাস করার সময় আমাদের খুব ভয় হতো। কখন যেন ছাদ ধসে পড়ে আমাদের ওপরে। স্কুলে ঢোকার পর থেকে মাথায় একটি চিন্তা থাকত—এই বুঝি ছাদ ধসে পড়ল। সে সময় লেখাপড়ায় কোনো মনোযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে স্কুলমাঠে ক্লাস করছি। এখানেও মনোযোগ বসে না।’
আমেনা বেগম নামের এক ছাত্রের অভিভাবক বলেন, এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা হতে পারে না। তার পরও সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। কারণ, আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় নেই।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জরাজীর্ণ ভবনের কারণে এখানে কেউ তাঁদের সন্তানদের পাঠাতে চান না। ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদেরও সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হতো। বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয় ভবনটির সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আলীম বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কিছু ঢেউটিন পাওয়া যাবে। সেগুলো দিয়ে ওই বিদ্যালয়ে একটি ঘর তোলা হবে। বরাদ্দ পেলেই খুব শিগগির স্কুলভবনটি সংস্কার করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন