ফেনী সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু এখনো ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনেই গাদাগাদি করে চলছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। অথচ ১৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজের ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য নতুন এ ভবনে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ২০০৬ সালের শেষ দিকে ১৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০০৭ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১২ সালে ভবনের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ-সংযোগ না দেওয়ায় ভবনটি এখনো চালু করা যায়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, যোগাযোগের সুবিধার কারণে ফেনী জেলা ছাড়াও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ভুজপুর এবং পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার রোগীরা ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অসীম কুমার সাহা বলেন, ১০০ শয্যার পুরোনো হাসপাতাল ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে।
বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেয়। পুরোনো হাসপাতাল ভবনে চিকিৎসকদেরও স্থান সংকুলান হয় না। এতে রোগী ও চিকিৎসকদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে, সোলার প্যানেল স্থাপন করা না হলে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিতরণ) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর জানান, সোলার প্যানেল স্থাপন ছাড়া বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সোলার প্যানেল স্থাপনের অঙ্গীকার নিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালে দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে খুব দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ-সংযোগ পাওয়া গেলে নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন