বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাবাজার ফেরিঘাট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের যোগাযোগের জন্য অন্যতম এই নৌপথে ১৮টি ফেরি চলাচল করে। সারা দেশে বিধিনিষেধ চলমান থাকায় সীমিত করা হয় ফেরি চলাচল। বিধিনিষেধ শুরুর ১৩তম দিনে ৭ থেকে ৮টি ফেরি ছাড়া হলেও ১৪তম দিনে ঢাকামুখী যাত্রী, গরুবোঝাই ট্রাকসহ যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১২টি ফেরি চালু করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বাড়লেও বেশি বেড়েছে গরুবোঝাই ট্রাকের চাপ। কোরবানির পশু নিয়ে ব্যবসায়ীরা ছুটছেন ঢাকার দিকে। ঢাকায় পশুর চাহিদা বেশি থাকায় গত দুদিন ঘরে গরুবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত গরুবোঝাই ট্রাক, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মিলিয়ে ১২০টির মতো ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ঘাটে কোনো ছোট গাড়ির চাপ নেই। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী ও কাঁচামালবাহী গাড়িগুলো সবার আগে ফেরিতে উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের চারটি পন্টুনে ঢাকামুখী যাত্রীদের জটলা। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলোয় পণ্যবাহী ট্রাক আর গরুবোঝাই ট্রাক ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর একেকটি ফেরি ছেড়ে যাচ্ছে শিমুলিয়ার উদ্দেশে। এসব ফেরিতে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় চাহিদা অনুসারে যানবাহন উঠানো যাচ্ছে না। ফেরিতে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে নেই করোনা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। অনেক যাত্রীর মুখে নেই মাস্ক।

বরিশাল থেকে আসা ঢাকামুখী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মার্কেট খুলবে। ঈদের বেচাকেনার চাপ বাড়বে। মালিকে ফোন দিছে, তাই ঢাকায় যাইতাছি।’

বেল্লাল খান নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় বাস না চলায় আমাদের ছোট গাড়ির বেশি বেশি ভাড়া দিয়া ঘাটে আসতে হইছে। ঢাকা থেকে বরিশাল আসার সময় পথে পুলিশে ধরলেও আজ ঢাকায় যাইতে পুলিশের কোনো বাধায় পড়তে হয় নাই। কিন্তু বড় গাড়ি না চলায় ভাড়া তো আমাগো বেশিই দেওয়া লাগল। এইডা কেউ বুঝল না।’

খুলনা থেকে ঢাকামুখী যাত্রী মোবারক মিয়া বলেন, ‘করোনা নিয়ে আমাগো চিন্তা করে লাভ নাই। আমরা মালিকের কাম করি। বিধিনিষেধের কারণে মালিকে ১৪ দিনের ছুটি দিছে। তাই বাড়িতে আইছিলাম। এখন আবার ঢাকায় যাই। ঈদে ছুটি পাইলে আবার দেশে আসমু।’

বুধবার বিকেল ৫টায় বাংলাবাজার ফেরিঘাটে দায়িত্বরত চরজানাজাত নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, কঠোর বিধিনেষেধের কারণে বিগত দিনে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কম থাকলেও শেষ দিন যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেশি। এখন ঢাকামুখী বেশির ভাগ যাত্রীই শ্রমিক, কর্মজীবী ও ব্যবসায়ী। কারণ, কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মার্কেট ও দোকানপাট খোলায় এসব যাত্রী ঢাকায় যাচ্ছেন। তাই ভিড় বাড়ছে।

আবদুল রাজ্জার আরও বলেন, নৌপথে ১২টি ফেরি ছাড়া অন্য কোনো নৌযান চলছে না। ১২টি ফেরি চলমান থাকায় যাত্রী ও যানবাহন পদ্মা পারাপারে কোনো প্রকার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। যাত্রীরা ঘাটে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরিতে উঠতে পারছেন। ট্রাকগুলোও ধীরে ধীরে ফেরি দিয়ে পারাপার হচ্ছে। দুর্ভোগ নেই ঘাটে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন