কোনো সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা-সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর গতকাল রোববার এ রুল দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইনসচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা অনুসারে, ধারা ১৪-এর অধীন বাছাইয়ের পর কোনো নির্বাচনী এলাকার সদস্য নির্বাচনের জন্য কেবল একজন ব্যক্তি বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অবশিষ্ট থাকেন অথবা ধারা ১৬-এর অধীন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর কেবল একজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই প্রার্থীকে ওই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করবেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম রিটটি করেন।
গতকাল রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান এম এস আজিম। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী খন্দকার দিদার উস সালাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সরকার। পরে হাসান এম এস আজিম প্রথম আলোকে বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এককভাবে প্রার্থী নির্বাচিত করা-সংক্রান্ত ১৯ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। তিনি বলেন, ১৯ ধারা সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১, ৬৫ (২), ১২১ ও ১২২(১) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্য, ১১ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার, ৬৫ অনুচ্ছেদে সংসদ প্রতিষ্ঠা, ১২১ অনুচ্ছেদে প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা এবং ১২২ অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা বিষয়ে বলা আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন