বিজ্ঞাপন

করোনায় গত বছরের মতো এবারও খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছে মানুষ। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদ পালনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। করোনার বিধিনিষেধে বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ নগরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র। তবে সাধারণ মানুষ, শিশু-কিশোরেরা ঘর থেকে বের হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ যে যার মতো করে ঘুরছেন। অনেকে পরিবার নিয়ে রিকশায় করে ঘুরছেন। হাতিরঝিল, গুলশান লেক, ধানমন্ডি লেকসহ নগরের নানা স্থানে মানুষ ঘুরছেন। আবার অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রাজধানীর আশপাশের এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছেন। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহারের সড়কের ধারে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেকে।

default-image

রমনা পার্ক বন্ধ থাকলেও রমনা পার্ক এলাকায় শিশুসন্তানসহ ঘুরতে এসেছেন আবু তালহা দম্পতি। তাঁরা থাকেন মিরপুরে। আবু তালহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে মানুষ ভালো নেই। পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশন খুললে নেতিবাচক খবর বেশি। শিশুদের স্কুল বন্ধ। ঢাকার মতো ইট-পাথরের শহরে একটি শিশু কত দিন ধরে ঘরের মধ্যে বন্দী থাকতে পারে? বাস বন্ধ। ঈদের ছুটিতে গ্রামে যেতে পারিনি। তাই দুই বাচ্চাকে নিয়ে রমনা এলাকায় ঘুরতে এসেছি। রিকশায় করে ঘুরছি, সিএনজিতে করেও ঘুরছি। আমার বাচ্চারা খুব আনন্দে আছে।’

ঈদের দিন বিকেলে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় শিশু-কিশোরদের উপচেপড়া ভিড় থাকত। অনেকে জানতেন না, গত বছরের মতো এ বছরও চিড়িয়াখানাসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। আজ ঈদের দিন অনেক শিশু-কিশোর ঘুরতে আসে চিড়িয়াখানায়। তবে প্রবেশ ফটক বন্ধ থাকায় অনেক কিশোর-কিশোরী মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যায়।

default-image

গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।

বিপদে পড়ে যান নিম্ন আয়ের মানুষ। পরে দোকানপাট, অফিস-আদালত খুললে জনজীবনে আবার স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তবে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে করোনার সংক্রমণ ও মানুষের মৃত্যু বেড়ে যায়। আবার গত ৫ এপ্রিল থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধসহ নানা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।

অবশ্য ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সপ্তাহ দুয়েক পর গত ২৫ এপ্রিল থেকে আবার দোকানপাট খুলে যায়।

default-image

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা করোনা মহামারির প্রভাব পড়েছে মানুষের মনে।

মনোচিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা করোনা মহামারিতে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। মানুষ প্রতিনিয়ত সংক্রমিত হচ্ছে। এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পত্রিকায়, টেলিভিশনে সব সময় দেখছে। এত মৃত্যু, এত নেতিবাচক খবর শুনে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ পরিত্রাণ চায়।

পুরান ঢাকার বংশালের বাসিন্দা আবদুল মোতালেব প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিনে নামাজ আদায় শেষে খাওয়াদাওয়া করে ঘুরতে বের হবেন, এটাই স্বাভাবিক। নগরের একজন মানুষ, তাঁকে তো টিকে থাকতে সারা বছর কাজ করতে হয়। ঈদের দিনে মানুষ প্রিয়জনের বাসায় ঘুরতে যান, ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যান, এটাই হয়ে থাকে। তবে করোনায় গত বছরের ঈদের দিনে মানুষ সেভাবে ঘুরতে বের হয়নি। তবে এ বছর মানুষ ঘুরতে বের হয়েছে।

default-image

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক চিকিৎসক হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ ইতিমধ্যে বুঝে গেছে, এই করোনা দীর্ঘ সময় তার সঙ্গী হয়ে থাকবে। মানুষ আর আগের মতো করোনা নিয়ে আতঙ্কিত নয়। মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের এই মনোভাবকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হবে। তবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে ঘোরাঘুরি করে, সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ঈদের দিনে মানুষ শিশু-কিশোরদের নিয়ে যে ঘোরাঘুরি করছে, সেটি খুবই ভালো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন