মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাতবাড়িয়া বাজারে একটি বিপণিবিতানে (মার্কেট) তালা ঝুলিয়েছে এক পক্ষ। এ কারণে ২২ দিন ধরে দোকানপাট খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের সাতবাড়িয়া মোড়ে সাত-আট শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাতবাড়িয়া গ্রামের বেলাল হোসেন, তাঁর ভাই আবদুল জব্বার, হাবিবুর রহমান ও নবির উদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের ভাতিজা মোজাম্মেল হক ও মোকলেছুর রহমানের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। দুই বছর আগে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বেলাল ও তাঁর সহোদরেরা বিপণিবিতান নির্মাণ করেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি মোজাম্মেল ও মোকলেছুরের নেতৃত্বে বিপণিবিতানে তালা মেরে দেওয়া হয়। এখনো তালা ঝুলছেই। দোকানের মালামাল নিয়ে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

জানতে চাইলে বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই। পৈতৃক সূত্রে সমানভাবে জমির মালিক হয়েছি। সাতবাড়িয়া বাজারেও বাবা আমাদের ভাইদের সবার নামে ১০ শতাংশ জমি দিয়ে যান। কিন্তু আমার বড় ভাই মরহুম খলিলুর রহমান বাজারের ওই জমি থেকে তাঁর অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। আমরা অন্য চার ভাই সাতবাড়িয়া বাজারের ওই জমিতে দুই বছর আগে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু ওই জমি তাদের বলে বড় ভাইয়ের ছেলে মোজাম্মেল ও মোকলেছুর দাবি করে আসছে। এটা নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। ২০-২২ দিন আগে তারা গুন্ডাবাহিনী নিয়ে মার্কেটে তালা মেরে দেয়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া তারা গায়ের জোর খাঁটিয়ে দখলদারি চালাচ্ছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

জমির মালিকানা দাবিদার মকলেছুর রহমান বলেন, ‘দাদার পাঁচ ছেলের মধ্যে আমার বাবা খলিলুর রহমান সবার বড়। বাবা মারা গেলে ওয়ারিশসূত্রে আমরা ওই জমির মালিকানা লাভ করি। ওই জমির দখল নিয়ে একাধিকবার মারধর, হামলা, ভাঙচুর ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একবার মামলা ও গ্রেপ্তার–আতঙ্কে আমি ও ভাই মোজাম্মেল সপরিবারে বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিই। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ ওই জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে। এখন আমাদের জমি আমরা বুঝে নিয়েছি।’

ব্যবসায়ী সাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘সাতবাড়িয়া গ্রামের বেলাল হোসেন তাঁর আর তিন ভাই দুই বছর আগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের সাতবাড়িয়া মোড়ের অদূরে ৯ কক্ষের একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। এর দুই কক্ষ ভাড়া নিয়ে আমি মিষ্টির ব্যবসা করে আসছি। জামানত দিতে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হয় ১ হাজার টাকা। হঠাৎ করে ৪ ফেব্রুয়ারি জমির মালিকানা দাবি করে মোজাম্মেলের লোকজন মার্কেটটি তালাবদ্ধ করে দেন। দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল বের করতে দেওয়া হয়নি। তালাবদ্ধ থাকায় আমি দোকান খুলতে পারিনি।’

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মার্কেট তালাবদ্ধ করার বিষয়ে অবগত আছি। তবে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন