অবরোধ-হরতালের মধ্যে রংপুর নগরের সব কটি বিপণিবিতান খোলা। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো। তবে দোকানগুলোয় মালামাল না থাকায় বিক্রি কমে গেছে।
ঢাকা থেকে কাপড় আনতে না পারায় ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মালামাল বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে।
এদিকে শুক্রবার বন্ধের দিন হলেও শহরের বড় বিপণিবিতানগুলো খোলা দেখা গেছে। জাহাজকোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের অধিকাংশ দোকান খোলা ছিল। এ মার্কেটের শেখ শখ বিপণিবিতানের মালিক রিপন শেখ বলেন, ‘মঙ্গলবার মার্কেট সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিন মার্কেট খোলা হয়। ক্রেতাও আসে। তবে বিক্রি কমে গেছে। কেননা মাল নেই। একটানা অবরোধ-হরতালে ঢাকা থেকে মালামাল আনতে পারছি না। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাল সরবরাহ করতে পারছি না।’
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট নগরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান। এখানে কেনাকাটার জন্য সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। মার্কেট খোলা থাকলেও গত সোমবার সন্ধ্যার পর মার্কেটের ভেতর ককটেল ফাটানো হলে ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে এ মার্কেটের প্রধান দুটি ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। মানুষজনের মধ্যে এখন আতঙ্ক অনেকটা কেটে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ বলেন, ঢাকা থেকে যদি মালামাল নিয়ে আসা যেত, তাহলে বিক্রি বেশ ভালো হতো। তবে মার্কেটে লোকজন আসছে। আগের চেয়ে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
গতকাল শহরের বেতপট্টি এলাকায় শিশুর জন্য কাপড় কিনতে যাওয়া বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, ‘চাকরির কারণে সময় দিতে না পারলেও ছুটির দিনে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছি। চাহিদা অনুযায়ী অনেক কম দামে জিনিস কিনতে পারছি।’
বেতপট্টির একটি কাপড়ের দোকানের মালিক নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সামর্থ্যের মধ্যে আমাদের দোকানে কাপড় বিক্রি হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষজন তো শহরে খুব কম আসছে। তাই বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মালামালও আনতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। তাই মাল আনা হচ্ছে না।’
মহানগর দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সব বিপণিবিতান খোলা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজের উদ্যোগে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। মানুষজনও কেনাকাটা করছে। তবে তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কিছুটা কম।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন