বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডালমুগরি (Hydnocarpus kurzii) চিরসবুজ মাঝারি আকারের বৃক্ষ। একসময় দেশে গাছটি সংখ্যায় অনেক ছিল। বর্তমানে বিপন্ন উদ্ভিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গাছটি দেশের বৃহত্তর সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনে এখনো অল্প কিছু টিকে আছে। এ গাছ ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের কাণ্ড সরল, গোলাকার ও সোজা। বাকল মসৃণ ও পুরু, রং সবুজাভ ধূসর, পাতা পুরু, ভল্লাকার বা আয়ত ভল্লাকার, আগা সুচালো, কিনারা সমান; তবে পাতার দুই পাশ ঢেউ খেলানো, রং গাঢ় সবুজ, শিরা স্পষ্ট। হালকা হলুদ রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো কখনো এককভাবে, আবার কখনো থোকায় থোকায় ফোটে। গ্রীষ্ম থেকে বর্ষাকাল ফুল ফোটার মৌসুম। হেমন্তকালে ফল পরিপক্ব হয়। ফল গোলাকার। পাকা ফল শক্ত, পুরু ও বাদামি রঙের। ফলের ভেতরে কয়েকটি বীজ থাকে।

ডালমুগরি বিপন্ন উদ্ভিদ হলেও চমৎকার ঔষধি গুণসম্পন্ন। এই গাছ বিচিত্র রোগে মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোথাও চুলকানি বা চুলকানির কারণে শরীর লাল হয়ে ফুলে গেলে ডালমুগরির তেল যথাস্থানে ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। তাতে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যাবে। আমাশয় নিরাময়ে এ গাছের পাতা সেদ্ধ করে পানিটা ছেঁকে গরম করে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। কুষ্ঠরোগে ডালমুগরির তেল গরম করে সকাল–বিকেল খেলে উপশম হয়। খুশকি হলে ডালমুগরির তেল মাথায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর মাথা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

তাহলে খুশকি কমে যাবে। ডালমুগরির পাতা বেটে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে চর্মরোগ ভালো হয়ে যায়। ডায়াবেটিসের প্রথম অবস্থায় ডালমুগরির ১ গ্রাম বীজ গুঁড়া করে প্রতিদিন সকাল–বিকেল গরম পানিসহ পান করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডালমুগরির তেল গরম করে তাতে মৌচাকের কাঁচা মোম মিশিয়ে মলম তৈরি করে খোসপাঁচড়া ও সাধারণ ঘায়ে লাগালে সেরে যায়। চীন ও আর্জেন্টিনায় এ গাছের তেল ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

একসময় কুষ্ঠরোগ নিয়ে নানান কুসংস্কার ছিল। রোগীকে সমাজচ্যুত করে একপ্রকার নির্বাসনে পাঠানো হতো। তখন এ রোগের একমাত্র ওষুধ হিসেবে ডালমুগরি ছিল সমাদৃত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন