অনুমোদিত জনবলের বাইরে প্রায় দুই হাজার জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ায় বিমান বাংলাদেশের ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মহাহিসাব নিরীক্ষকের ২০০৮-০৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নীরিক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, ২০০৭ সালে সোনালি করমর্দনের মাধ্যমে বিমানের জনবলকে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়। তখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বিমানের অনুমোদিত জনবল ৬ হাজার ৮৩৭ থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৪০০-তে নামিয়ে আনা হয়। এতে বিমান পরিচালনার কাজে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন বিমান কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়। এমনকি সোনালি করমর্দনের মাধ্যমে বিদায় নেওয়া কর্মকর্তাদের অনেককেও আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিমানে অনিয়মিতভাবে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ (এয়ার ফ্রেম) কিনে হ্যাংগারে ফেলে রেখে বিমা প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়াম পরিশোধ করায় বিমানের প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কমিটি এই ক্ষতির দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছামতো জনবল নিয়োগ দিয়েছে। যে কারণে বিমান লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংসদীয় কমিটি বিমানকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে জনবল কমানোর সুপারিশ করেছে। এ জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মঈন উদ্দীন খান বাদল, এ কে এম মাঈদুল ইসলাম, রুস্তম আলী ফরাজী ও ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন