বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালন শাখার পরিচালকসহ (ডিএফও) গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদে রদবদল করা হয়েছে। চিফ অব টেকনিক্যাল, চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ও ডেপুটি চিফ অব টেকনিক্যাল পদেও পরিবর্তন আসছে।
গত বৃহস্পতিবার এক দিনে দুটি দাপ্তরিক আদেশে পাঁচজনকে বদলি করা হয়। একটি আদেশে ডিএফও সরকার কামাল সাঈদকে বদলি করে তাঁর স্থলে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয় ফরহাত হাসান জামিলকে। বোয়িং ৭৭৭-এর ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিল এর আগে বিভিন্ন সময়ে ফ্লাইট সেফটি, টেকনিক্যাল ও প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং শাখার প্রধান ছিলেন।
অপর দাপ্তরিক আদেশে চিফ অব ট্রেনিং পদ থেকে ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদকে, ডেপুটি চিফ অব ট্রেনিং পদ থেকে নজরুল ইসলাম শামীম, ডেপুটি চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং থেকে মো. সাইফুজ্জামান ও ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদ থেকে আবু নাসের আহমেদ ইমরানকে লাইন পাইলট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের স্থলে নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে এ কে এম আমিনুল ইসলাম, তাপস আহমেদ, ইলিয়াস নিক্সন বাড়ৈ ও এনামুল হক। এসব নিয়োগ ও বদলি আদেশ ৮ মে থেকে কার্যকর হবে। বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) সাফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগ-বদলির নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বদলি হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে জামালউদ্দিন আহমেদ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা বিমানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতেন। এঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন নজরুল ইসলাম শামীম (নজরুল শামীম)। তাঁদের রোষানলে পড়ে অনেক দক্ষ কর্মী, বৈমানিক পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। গত মাসে নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর বিমানে জামাল যুগের অবসান হয়। এক মাসের মাথায় এসে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো। আগামী সপ্তাহে আরও রদবদল হবে।
নজরুল শামীম দাবি করেন, তিনি নিজে থেকেই পদ ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন গত মাসে। তিনি কোয়ালিটি ও সেফটির ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করেননি।
মিসর থেকে দুটি বিতর্কিত উড়োজাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও নজরুল শামীমের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে তিনি দাবি করেন, দরপত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজ দুটি ভাড়া করা হয়েছে, এতে তিনি জড়িত ছিলেন না। তবে এর প্রস্তাবিত ভাড়া কমানোর দর-কষাকষিতে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন