রাজশাহীর তানোরের বিলটির নাম বিলকুমারী। আয়তন ১৫৭ হেক্টর। বর্ষায় বেড়ে হয় সাড়ে ৭০০ হেক্টর। জুলাই মাস থেকে কেউ মাছ ধরে না। ডিসেম্বর মাসে মাছ ধরার উদ্বোধন হয়। প্রথম দিন মাছ ধরে বিলের ধারে মেলা শুরু হয়। এ বছরের মেলা শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার সকালে। এদিন মেলায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, দেশে এমন মেলা শুধু তানোরেই হয়।
তানোর মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাস খতিয়ানভুক্ত বিলটি একটি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। ২০০৮ সাল থেকে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই বিলের মাঝখানে দুই হেক্টর এলাকা নিয়ে দুটি অভয়াশ্রম করা হয়েছে। বিলকুমারী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ৪৬৮ জন সদস্য এই বিলের দেখভাল করেন। জুলাই মাস থেকে বিলের পুরো দুই কিলোমিটার জলসীমায় কাউকে নামতে দেওয়া হয় না। শুধু ডিসেম্বর মাসের যেকোনো এক দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ ধরার উদ্বোধন করা হয়।
গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিলকুমারী বিলের ধারে তানোরের ডাকবাংলা ফুটবল মাঠে মেলা বসেছে। মেলায় বসানো হয়েছে প্রায় ১৪টি আড়ত। জেলেরা বিল থেকে মাছ ধরে আড়তে আসছেন। প্রতিটি আড়ত ঘিরে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে নিলামে মাছ বিক্রি হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ ও স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা মাছ কিনছেন। খুচরা বিক্রেতাদেরও মেলায় মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মেলার মাঠের প্রবেশপথে তৈরি করা হয়েছে ফটক। মাঠ ঘিরে রয়েছে প্যান্ডেল ও এক প্রান্তে মঞ্চ। সকালে ওই মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান ভুঁঞা। মেলায় এবার বড় বোয়াল মাছের দাম উঠছে এক হাজার টাকা কেজি। বিলুপ্তপ্রায় মধু পাবদাও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি উঠেছে বিগ হেড মাছ। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাছ কিনতে মেলায় ভিড় করেছেন।
রাজশাহী শহর থেকে মাছ কিনতে গেছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোস্তাক রহমান। তিনি বলেন, পুকুরের মাছের চেয়ে বিলের মাছের স্বাদ বেশি। তা ছাড়া মেলায় একসঙ্গে অনেক রকমের মাছ পাওয়া যায়। এ জন্যই তিনি মেলায় এসেছেন।
বেলা ১১টার দিকে বিলে কয়েক শ নৌকায় করে জেলেদের মাছ শিকার করতে দেখা যায়। একটি নৌকা থেকে মাইকে জেলেদের মাছ ধরার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আগামী জুন মাস পর্যন্ত তাঁরা বিলের দুই কিলোমিটার এলাকায় মাছ শিকার করবেন। গত কয়েক বছরে তাঁদের সমিতির অনেক সদস্যই বেশ স্বাবলম্বী হয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বায়েজিদ আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এই মেলা চলছে। বাংলাদেশে আর কোথাও বিলের মাছের এমন মেলা বসে না। এ বছর এই মেলায় ১৪০ মেট্রিক টন মাছ পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন