স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক আদেশ প্রত্যাহার এবং রাঙামাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। গতকাল শুক্রবার রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ী এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনের পর রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর পাঠানো স্মারকলিপিতেও একই দাবি জানানো হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু দুর্ভাগ্যজনক ও অপমানজনক নয়, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী সিদ্ধান্ত। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো আদেশে কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা বৈঠক করলে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী বা বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের এক মাস আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমতির জন্য আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি বা কোনো সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, গত ১০ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি শহরে সংঘটিত সহিংস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হতেই রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন পার্বত্য চুক্তিতে উল্লেখিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দেবে। এতে শিক্ষার প্রসারের পরিবর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকতর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান চাপিয়ে দেওয়া দুরভিসন্ধিমূলক বলে নাগরিক সমাজ অভিযোগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। বক্তব্য দেন রাঙামাটি জেলার পক্ষে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন মানিক লাল দেওয়ান, খাগড়াছড়ি জেলার পক্ষে সাবেক যুগ্ম সচিব ইউকে জেন এবং বান্দরবান জেলার পক্ষে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জুমলিয়ান আমলাই। এ সময় তিন পার্বত্য জেলার দেড় শতাধিক জ্যেষ্ঠ নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, ঐতিহ্যবাহী নেতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন