বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সারা বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। সর্বনিম্ন মাথাপিছু আয় হবে তিন হাজার ডলারের ওপরে। এটি সম্ভব করতে হলে সবার বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে হবে। ২০২১ সালের আগে সব বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘিপাড়া কয়লাখনি পরিদর্শনে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দলারগরগা বাজারে পথসভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নসরুল হামিদ বলেন, জনগণের ক্ষতি করে এ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র বা কয়লাখনি করা হবে না। এলাকার কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষকসহ সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব খনির সবচেয়ে ভালো যে ব্যবহার, তা–ই করা হবে। কারও ক্ষতি করে নয়। এ দেশের জনগণের ক্ষতি করে প্রধানমন্ত্রী কিছু করবেন না।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী জনগণের হাতে ‘এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই’ লেখা একটি ব্যানার দেখে বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হলে এ এলাকা শিল্প এলাকায় পরিণত হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। সেটিও করা হলে যাচাইবাছাই করে করা হবে। জনগণের ক্ষতি করে নয়।
সভাস্থল থেকে এলাকাবাসীর কাছে এলাকার বিদ্যুতের পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে এলাকায় বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই বলে জনগণ জানালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ঠিক বলেননি। এ এলাকায় এখনো অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। স্থানীয় সাংসদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শিবলী সাদিক সব সময় আমার পেছনে এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের জন্য লেগে থাকেন।’

১৯৯৫ সালে দীঘিপাড়া কয়লাখনি আবিষ্কৃত হলেও এত দিনেও খনির কার্যক্রম শুরু না হওয়া বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকার জনগণ যখন চাইবেন তখন খনি হবে।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাট হয়ে নবাবগঞ্জে আসার পথে হিলির চারমাথায় পথসভা করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘বিএনপি–জামায়াত হরতাল-অবরোধের নামে কৃষকের মাথায় বাড়ি দিয়েছে। ভোটের সময় বিএনপি-জামায়াত কৃষকদের ভোট পাবে না। পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত দেশকে অশিক্ষিত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের অযৌক্তিক আন্দোলন বুমেরাং হয়ে গেছে। তাদের নেতারা এখন বোবা হয়ে গেছেন। টক শোতেও ভয়ে কেউ যায় না। খালেদা জিয়ার মুখ দিয়ে তো কথাই বের হয় না।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সদর আসনের সাংসদ সামছুল আলম, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসরাইল হোসেন, বিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ কবির, ঘোড়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাফে খন্দকার শাহানসাহ, হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন