বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে সৃজনশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ফলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সম্মিলিত লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা পুরস্কার বিজয়ীর প্রশংসা করে বলেন, ‘ইউনেসকো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি পুরস্কার পাওয়ায় আমি এমওটিআইভি ক্রিয়েটিভ লিমিটেডকে (উগান্ডা) অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

এমওটিআইভিকে ৫৯টি মনোনীত প্রার্থী থেকে এই পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হয়। ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে যুব উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এমওটিআইভিকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেসকো-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বিশ্ব মানবতা ও শান্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত সম্মান।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা বৈশ্বিক অগ্রাধিকার অর্থাৎ লিঙ্গসমতা ও গোষ্ঠী হিসেবে যুবকদের অগ্রাধিকারে অবদান রেখে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইউনেসকোর প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইউনেসকো সদর দপ্তরের পৌঁছালে সংস্থার মহাপরিচালক অড্রে আজুলে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনেসকো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার অবশ্যই সৃজনশীল উদ্যোক্তা বিকাশের সর্বোত্তম অনুশীলনকে ধারণ, উদ্‌যাপন ও যোগাযোগের মাধ্যমে একটি জ্ঞান বিনিময়ের কৌশল তৈরি করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির আন্তর্জাতিক বছরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আমাদের অগ্রাধিকারের এই ক্ষেত্রগুলোতে ইউনেসকোর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশেষভাবে ধন্য ও সম্মানিত।

প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টিও আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার’-এ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করছি। একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হচ্ছে। ইউনেসকো আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্‌যাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিব বর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রবর্তন ও বিতরণের জন্য আমি ইউনেসকোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলেকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ইউনেসকোর একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় সর্বোত্তম বিনিয়োগ। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমার সরকারও শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছি। দেশে এখন প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার। এগুলোর মধ্যে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকার পরিচালিত। ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এখন প্রতিবছর প্রায় ৪০ কোটি বই বিতরণ করা হয়। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৩ লাখের বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মা অথবা বৈধ অভিভাবকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে যায়। মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত আরও প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে উপবৃত্তি-বৃত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ সুফল দিতে শুরু করেছে। গত এক দশকে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। এ সময়ে মাথাপিছু আয় তিন গুণ বেড়ে ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।বাংলাদেশ এ বছর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন