default-image

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা খুনের মামলা থেকে যাঁরা অব্যাহতি পেয়েছিলেন, তাঁদের কেউই ছাড়া পাননি। এ ঘটনায় দায়ের করা অন্য একটি মামলা চলমান থাকায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁদের কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। তবে কবে সেই মামলার বিচার শেষ হবে, তাও কেউ বলতে পারছেন না।
এদিকে ৫ জানুয়ারি থেকে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে শুরু হয়েছে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি। রাষ্ট্রপক্ষ সেখানে এখনো পেপারবুক থেকে উপস্থাপন করছে।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাহিনী এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। বিডিআর থেকে বিজিপিতে পুনর্গঠন করার পর ভেঙে পড়া বাহিনী নতুন রূপে সেজেছে। লোকবলও বাড়ানো হয়েছে।
ছয় বছর আগের (২০০৯) ঠিক এই দিনে (২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি) বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ানেরা নারকীয় তাণ্ডব চালায় পিলখানায়। তাদের হাতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিদ্রোহের বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট হয়নি।
বিডিআর বিদ্রোহের পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। দুই কমিটির প্রতিবেদনে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার বিচার সেনা আইনে করার সুপারিশ করা হলেও উচ্চ আদালতের মতামতের পর সরকার প্রচলিত আইনেই এর বিচার করে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারকে আর্থিক সুবিধাও দেওয়া হয়।
বর্ডার গার্ড সূত্র জানায়, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লোকের সাজা হয় অধিনায়কদের সামারি ট্রায়ালে। এতে মোট ১১ হাজার ২৬৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৭৩ জনের বিভিন্ন ধরনের সাজা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাকিরা প্রশাসনিক দণ্ড শেষে আবার চাকরিতে যোগদান করেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠন করে ৬ হাজার ৪৬ জন জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এসব মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তাঁদের প্রত্যেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ১১৫ জন চাকরি ফিরে পেয়েছেন। বিচার চলার সময় পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর একটি ছিল খুনের মামলা আর অন্যটি বিস্ফোরক মামলা। খুনের মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। এতে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ২৭৮ জন খালাস পান।
ফাঁসির আসামিদের মধ্যে জেলহাজতে আছেন ১৩৭ জন, একজন মারা গেছেন, পলাতক ১৪ জন। ফাঁসির আসামিদের পক্ষে করা আপিলের শুনানি চলছে। পাশাপাশি ৬৯ জন আসামিকে খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের একটি আপিল শুনানি চলছে। ফৌজদারি আদালতে দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন আসামি রয়েছে। এ মামলার মাত্র ৩০টি কার্যদিবসে ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ নতুন দিন ধার্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন