বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরআরআরসি কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামছু-দ্দৌজা প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার রোহিঙ্গাদের আরও একটি দল নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। তবে কতজন যাচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে রোহিঙ্গা স্থানান্তর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, নবম দফায় বুধবার অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭০০ জন রোহিঙ্গাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ার পর এটি ভাসানচরে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম। এর আগে পর্যায়ক্রমে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচর আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর করা হয় সাড়ে ১৯ হাজার রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন দলনেতা (মাঝি) জানিয়েছেন, ভাসানচরে চলে যাওয়ার জন্য অনেক রোহিঙ্গার আগ্রহ থাকলেও, রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এ কারণেই অনেকের ইচ্ছা থাকলেও যেতে সাহস পাচ্ছে না।

ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আনা হচ্ছে জানিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
আরআরআরসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরের চাপ কমাতে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার ধারণক্ষমতার আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইনে নৃশংসতার শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। কয়েক মাসে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আসে আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন