উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সিএনজিচালিত অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে আগামী সোমবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার সড়ক পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মুছা এ ঘোষণা দেন।
সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ওই দিন যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, টেম্পো, অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক মাসের মধ্যে অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়াসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি না মানলে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

মোহাম্মদ মুছা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হাইকোর্ট গত ২৫ এপ্রিল অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা না দিতে আদেশ দেন। এ আদেশের অনুলিপি নগর পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর পরও চট্টগ্রাম নগরে অনিবন্ধিত অটোরিকশাকে রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এটা আদালত অবমাননা। তাই নগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার উকিল নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অনিবন্ধিত অটোরিকশার নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বিআরটিএ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একই সঙ্গে পুলিশের টোকেন বাণিজ্য, গাড়ি রিকুইজেশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। মেঘনা ও গোমতি সেতুতে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় বন্ধ এবং চট্টগ্রামে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে বলে দাবি করা হয়।

বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা কিংবা হস্তক্ষেপ না করার জন্য চট্টগ্রাম নগর পুলিশ প্রশাসনসহ (সিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। সিএমপি কর্তৃপক্ষের টালবাহানা এবং বৈঠকের কথা বলে সময় নষ্টের কারণে গত বুধবার বিকেল থেকে অটোরিকশা ও অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানো শুরু করে। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত অবমাননা করে সিএমপি গত দুদিনে ৫০টির বেশি মামলা দিয়েছে। এরপরও আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংগঠনভুক্ত অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত গাড়ি চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরে প্রায় চার হাজার অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রয়েছেন। তাঁদের ওপর পরিবারের আরও ২০ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। অথচ বিভিন্ন উৎস থেকে ধারদেনা করে এসব গাড়ি কেনা হয়েছে। এতে ঋণদাতার কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরে আট হাজার অটোরিকশায় মিটার সংযোজন বা মেরামতকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই নগরে ১৩ হাজার অটোরিকশা চালানোর অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সেই ১৩ হাজারের মধ্যে জীর্ণশীর্ণ প্রায় পাঁচ হাজার অটোরিকশা রাস্তায় নেই। এতে অটোরিকশার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই অনিবন্ধিত অটোরিকশা পাঁচ হাজারের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। উচ্চ আদালতও অনিবন্ধিত গাড়ি চলাচলে বাধা দূর করেছেন। এখন নিবন্ধনের ব্যবস্থা সরকারকে করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ফেডারেশনের আওতাভুক্ত ৪৩টি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। ধর্মঘটের সমর্থনে এই শ্রমিক সংগঠন আগামী সোমবার ভোর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, মোহাম্মদ হারুন, রবিউল মাওলা, আবদুল গফুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন