রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ধোলাইঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেঞ্চের অভাবে মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। এ কারণে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। ওই ভবনে চারটি কক্ষ আছে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় শুরু থেকেই ভবনটির ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। ২০১৩ সালের জুন মাসে একটি কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভবনটিতে ক্লাস না করার জন্য শিক্ষকদের পরামর্শ দেন।

এ নিয়ে ওই বছরের ৫ নভেম্বর প্রথম আলোতে‘খোলা আকাশের নিচে পাঠদান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের প্রায় তিন লাখ টাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য তিন কক্ষের একটি টিনশেড পাকাঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কোনো বেঞ্চ দেওয়া হয়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের নতুন পাকা ঘরের দুটি কক্ষে শিক্ষকেরা পাঠদান করছেন। বেঞ্চের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী মেঝেতে বসে আবার কেউ বেঞ্চে বসে শিক্ষকের কথা শুনছে।

এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সুইটি খাতুন বলে, ‘ঠান্ডায় মাঝিয়াত (মেঝে) বসি পড়া পড়তে কষ্ট হয়।’ পরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পল্লব রায় বলে, ‘আগে এলে বেঞ্চ পাওয়া যায়, পরে এলে মাঝিয়াত বসতে হয়। স্যারক বেঞ্চের কথা কইলে কয়, “ধৈর্য ধরো। এই বছরে বেঞ্চ পামো।”’ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনক রায় বলে, ‘মাঝিয়াত বসি ক্লাস করতে খুব খারাপ লাগে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমানাথ রায় জানান, আগে ৪০টি বেঞ্চ ছিল। সেগুলোও বেশির ভাগ ভেঙে গেছে। এখন ২০৫ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য মাত্র ২০ জোড়া বেঞ্চ আছে, প্রতি জোড়া বেঞ্চে তিনজন করে বসা যায়। যারা বেঞ্চে জায়গা পায় না, তারা মেঝেতে বসে ক্লাস করে। অনেক শিক্ষার্থী ঠান্ডার কারণে মেঝেতে বসতে চায় না। তারা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে।

প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, বেঞ্চ-সংকটের বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। বেঞ্চ­ের অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ২০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এখন ১৫০-১৬২ জন শিক্ষার্থী স্কুলে আসে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম জানান, বেঞ্চের সমস্যার কথা উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, পরিকল্পনা করে শিগগিরই ওই বিদ্যালয়ে বেঞ্চ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন