যশোরের বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় গতকাল শনিবার সকালে ভাষাশহীদদের স্মরণে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা বসেছিল। অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
বেনাপোল ও পেট্রাপোলের পৃথক মঞ্চে আলোচনা আর নাচে-গানে মেতে ওঠেন দুই বাংলার হাজারো মানুষ। সকাল নয়টায় বেনাপোলে নির্মিত মঞ্চে আসেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাজ্যসভার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাধিপতি রহিমা খাতুন ও বনগাঁ পৌর মেয়র জোছনা আঢ্যের নেতৃত্বে ভারতের একটি দল। তখন বাংলাদেশিরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও মিষ্টি দিয়ে তাঁদের বরণ করেন। এরপর বাংলাদেশের পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, যশোরের জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে একটি দল পেট্রাপোলের একুশে মঞ্চে যোগ দেয়।
ওপারের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ইসমত আরা সাদেক বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। আর এই স্বাধীনতাসংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘ভাষার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কারও নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি। ভাষার টানে আমরা বাংলাদেশে ছুটে এসেছি একুশ উদ্যাপন করতে।’
দুই দেশের মাতৃভাষা উদ্যাপন কমিটির আয়োজিত অনুষ্ঠানের উভয় মঞ্চে একুশের কবিতা আবৃত্তি, ছড়া, গীতিনাট্য, আলোচনা ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লোপা মুদ্রা মিত্রসহ একটি শিল্পীর দল গান, কবিতা ও গীতিনাট্য পরিবেশন করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন