বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরেক শিক্ষার্থী মেহজাবিন আনিকা জানায়, করোনা তাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। অবশেষে স্কুলে আসতে পেরে সে উচ্ছ্বসিত।

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এই শাখায় প্রায় ছয় হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। প্রভাতি শাখায় বালিকা ও দিবা শাখায় বালকদের শিক্ষাদান করা হয় এই প্রতিষ্ঠানে। সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ঢোকার সময় সারিবদ্ধভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে তাপমাত্রা। এরপরই জীবাণুনাশক টানেল পেরিয়ে কিছু দূর গিয়ে বেসিনে হাত পরিষ্কার করছে শিক্ষার্থীরা। এর ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছে কেউ কেউ, করছে কোলাকুলিও।

শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপার দায়িত্বে থাকা গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৯৮ দশমিক ৪ হলে শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। ‌এর বেশি হলে পরিস্থিতি বুঝে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকায় ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মূল ফটকে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে দেখা গেছে, অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের সামনে আসার পর তাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যে অনেকে গন্তব্যে ফিরে গেছেন। কেউ কেউ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মুখেই মাস্ক ছিল।

স্কুল প্রাঙ্গণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ভেতরে ঢোকার পর শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিচ্ছেন। ‌কুশলাদি বিনিময় করছেন। এরপর শ্রেণিকক্ষে চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বন্ধুদের পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হওয়ার কথা। সোয়া নয়টায় প্রতিষ্ঠানটিতে আসে শিক্ষার্থী হাজেরা খাতুন। ঢোকার পরই তার আরেক বন্ধু নাফিসা চৌধুরীকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে সে। ‌কিছুক্ষণ ভাব আদান–প্রদানের পর শ্রেণিকক্ষে চলে যায় তারা।

কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষক অর্জুন কুমার পালের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তাঁরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অন্তত ৮০ জন করে শিক্ষার্থী ছিল। এখন সেখানে ৪০ জন করে রাখা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থীকে নিরাপদ দূরত্বে বসানো হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আ ন ম কামাল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফিরে এসেছে। শিক্ষক হিসেবে এটা তাঁর কাছে অনেক আনন্দের।

এই শিক্ষকের সঙ্গে যখন প্রথম আলোর কথা হয়, তার কিছুক্ষণ পরই দীর্ঘ ১৮ মাস পর প্রথম ক্লাসে যাচ্ছিলেন তিনি। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি জানান, আজ কোনো একাডেমিক পাঠদান হবে না।‌ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেবেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ে পিয়ন হিসেবে চাকরি করেন তামিম আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় যখন পুরো প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে গিয়েছিল, তখন নিশ্বাস আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁর। শিক্ষার্থীদের মায়ার বন্ধনে পড়ে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যখন বন্ধ ছিল, তখন প্রায় সময়ই প্রধান ফটকের সামনে এসে তিনি বসে থাকতেন।

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে কার্যদিবসে কোন দিন কোন শ্রেণিতে কোন ক্লাস হবে—এমন একটি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।‌ এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি নির্দেশনাগুলোও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন