আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় তরমুজের আশানুরূপ ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। মৌসুমের কয়েক মাস আগেই বাজারে আসায় বিক্রিও হচ্ছে ভালো। গাঢ় লাল রঙের ও মিষ্টি স্বাদের এই তরমুজের কদর আছে ক্রেতাদের কাছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়েনর ধলঘাট ও বার আউলিয়া এলাকায় এবার ছয় হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। তবে এবার বেড়িবাঁধের ভেতরের জমিতে ফলন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়েছে। প্রতিবছর বেড়িবাঁধের বাইরের বালিয়াড়িতে প্রচুর তরমুজ ফললেও এ বছর লোনা পানির কারণে আশানুরূপ ফলন হয়নি।
অবরোধ সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বাজারে এখানকার তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছোট আকারের তরমুজ প্রতিটি ২০–৩০ টাকায় ও বড় আকারের তরমুজ ১০০–২০০ টাকায় কিনছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুরের একেবারে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত বার আউলিয়া ও ধলঘাট এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তরমুজচাষিরা। কোনো কোনো খেত থেকে ইতিমধ্যেই তরমুজ তোলা শুরু হয়ে গেছে।
স্থানীয় তরমুজচাষিরা জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাঁরা তরমুজের বীজ বপন করেছেন। ফেব্রয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তরমুজ পরিপক্ক হয়। মৌসুমের আগে চাষ হয় বলে বাজারে এই তরমুজের চাহিদা বেশি।
বার আউলিয়ার তরমুজ চাষি অজি আহমদ (৩৯) বলেন, এখানে পুরো বছর আর কোনো চাষাবাদ হয় না। শুধু শীতকালে তরমুজ চাষ হয়। এখানে উৎপাদিত তরমুজ খুব মিষ্টি। এ এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে ও ভেতরে ৭০ জনের মতো চাষি তরমুজ চাষ করেছেন। অন্যন্য বছর বেড়িবাঁধের বাইরের বালিয়াড়িতে তরমুজের ফলন ভালো হলেও এবার বাঁধের ভেতরের জমিতে ফলন ভালো হয়েছে।
গত সাত বছর ধরে তরমুজ চাষ করছেন বাছন আলী (৪৭)। তিনি বলেন, ‘আমি এ বছর প্রায় ৬০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় এবার এক লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’
তবে লোনা পানির কারণে ফলন ভালো হয়নি বেড়িবাঁধের বাইরের জমিতে। চাষি সৈয়দ নুর(৫০) ফলন দেখে বেশ হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বেড়িবাঁধের বাইরের জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়। কিন্তু এবার লোনা পানি বেড়ে যাওয়ায় ফলন আশানুরূপ হয়নি। এ কারণে লোকসান গুণতে হবে।’
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনোয়ারা উপকূলের তরমুজ খুব সুস্বাদু। ফলন যাতে আরও বাড়ানো যায় এজন্য আমরা চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন