default-image

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় না করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ে দুটি প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়কর আদায় না করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আয়কর বাবদ আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত থাকবে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন করে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় না করতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর আয়কর হিসেবে ওই অর্থ আদায় করা হচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি পেয়েছে। আপিলের ওপর এখন শুনানি হবে।

এর আগে ওই প্রজ্ঞাপন দুটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এক শিক্ষার্থী পৃথক ৪৬টি রিট করেন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ের দুটি প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই দুই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ হারে রিট আবেদনকারী যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আয়কর বাবদ অর্থ আদায় করেছে তা ফেরত দিতে সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক ৪৪টি লিভ টু আপিল করে, যার ওপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হয়।

বিজ্ঞাপন
বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ের জন্য ২০০৭ সালের ২৮ জুন ও ২০১০ সালের ১ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। এর বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এক শিক্ষার্থীর করা পৃথক ৪৬টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। অন্যদিকে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, প্রবীর নিয়োগী, ওমর সাদাত ও সাখাওয়াত হোসেন।

বেসরকারি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ওমর সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগের আদেশের ফলে বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আয়কর দাবি ও আদায় করা যাবে না। সারা দেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ।
বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ের জন্য ২০০৭ সালের ২৮ জুন ও ২০১০ সালের ১ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। এর বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এক শিক্ষার্থীর করা পৃথক ৪৬টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন।

বেসরকারি পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট দুটি প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের রায়ে আয়কর আদায় না করতে এবং আয়কর হিসেবে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায় এত দিন স্থগিত ছিল। আপিল বিভাগ ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদায় না করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আয়কর হিসেবে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে যে নির্দেশনা ছিল, তা স্থগিতই রেখেছেন।

আপিল বিভাগের আদেশের ফলে বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আয়কর দাবি ও আদায় করা যাবে না। সারা দেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ।
ওমর সাদাত, আইনজীবী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০০৭ সালের ২৮ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে, ‘...সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তাদের উদ্ভূত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পুনঃনির্ধারণ করা হলো। মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্য শিক্ষাদানে নিয়োজিত প্রাইভেট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আয় কর মুক্ত হইবে। কিন্তু ওইসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিবছর যথারীতি নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীসহ আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। ১ জুলাই ২০০৭ থেকে এটি কার্যকর হবে।’
এনবিআর থেকে ২০১০ সালের ১ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

ওই দুই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পৃথক রিট করা হয়। এর মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রাম; ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন