রাজধানীর হাজারীবাগের ভাগলপুর লেনে বোমা বিস্ফোরণে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তিনি লালবাগের ঢাকেশ্বরীর বাসিন্দা মো. জসিম (২৫)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে জসিমের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জসিম রাজনীতি করতেন না। পরিবহন ও জেনারেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বাবা মৃত আবদুর রাজ্জাক।
ভাগলপুর লেনের একটি বাড়িতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোমা বিস্ফোরণে জসিম নিহত হন। এ ঘটনায় আহত রাজু হোসেন (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজুর বন্ধু ছিলেন জসিম। চিকিৎসকেরা বলেছেন, রাজুর অবস্থা গুরুতর।
বোমা বিস্ফোণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিস্ফোরক আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেন হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলিভ মাহমুদ। এর একটিতে নিহত জসিমকে এবং আরেকটিতে রাজু, তাঁর মা ফাহমিদা বেগম ও বন্ধু জসিম (নিহত) ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১৯ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় বোমা বানানোর সময় আহত রাজু ও তাঁর মাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল একটি মামলায় রাজুর মাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাজু সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
ভাগলপুর লেনের যে বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, ওই বাড়ির অন্য বাসিন্দারা বলেন, দোতলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের সময় রাজুর মা নিচতলায় ঘুমিয়ে ছিলেন।
মর্গে জসিমের লাশ শনাক্তের পর মাকসুদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী রাজুর বন্ধু ছিলেন। তবে তিনি বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িত নন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জসিমকে বন্ধু জেনারেটরের মিস্ত্রি সুমন ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর জসিম আর বাসায় ফেরেননি। ভাইদের সঙ্গে জসিম পিকআপ ও রেন্ট-এ কারের যৌথ ব্যবসা করতেন। তিনি জেনারেটরের ব্যবসাও করতেন। তবে রাজনীতি করতেন না।
জসিমের মা রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য সুমন দায়ী।’ তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরীতে তাঁদের বাড়ি থাকলেও জসিম স্ত্রীকে নিয়ে হাজারীবাগের কোম্পানীগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকত। জসিমের ১৪ দিন বয়সী এক ছেলে আছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে জসিমের লাশ স্বজনেরা নিয়ে যান। তাঁর লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন