জেল-জরিমানাসহ শাস্তির বিধান করে বিদ্যমান ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট বা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। বিধি প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসনিক জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ৪৩তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান।
সংশোধিত আইনে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিধিবহির্ভূতভাবে বিদেশে সম্পদ অর্জন করলে তার তথ্য তলব এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সব ধরনের তথ্য চাওয়ার বিধান থাকছে। আবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের জন্য বিদেশিদের পক্ষে তাদের এজেন্ট নিয়োগের বিধান শিথিল এবং সেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আবার মন্ত্রিসভায় উঠবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বর্তমানে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনটি ১৯৪৭ সালের। এরপর ১৯৪৭ ও ১৯৭৬ সালে কিছু সংশোধনী আনা হয়। ২০০৩ সালে আবার সামান্য সংশোধন হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনটি যুগোপযোগী করা হচ্ছে।
আইনটি সংশোধনের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কারিগরি সহায়তা নিয়ে কমিটি খসড়া সংশোধনী প্রণয়ন করে। এরপর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়ায় নতুন কিছু সংশোধনী আনা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, খসড়াটি মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হলেও কেউ এ বিষয়ে মত দেননি। মানুষ যাতে এসব বিষয়ে সচেতন হয় এবং মতামত দেয় সে জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের এখানে শাখা, প্রতিনিধি বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করতে বিনিয়োগ বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অফিস স্থাপনকে বিলম্বিত করে। এতে দেশ সম্ভাব্য বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এখন থেকে শুধু বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদনের শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদন নেওয়ার এক মাসের মধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পক্ষের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের আবশ্যকতা রহিত করলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে (ইন্ডেন্টিং এজেন্ট, বায়িং হাউস, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা) সহায়ক হবে।
আইন সংশোধন করে নিবাসীদের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক ও বিদেশি নাগরিক—উভয়ের জন্য এই আইন প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় লাইসেন্স নিয়ে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক জরিমানা করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গতকালের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের দুই দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভিসা লাগবে না। ভিসা ছাড়াই তাঁরা ৩০ দিন থাকতে পারবেন। প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যাবে।