চট্টগ্রামে খনিজ খাওয়ার পানি উৎপাদনকারীদের একটি সংগঠন রয়েছে। এর সদস্যসংখ্যা ১১২। তার মধ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মান অনুযায়ী খাওয়ার পানি সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাকিরাও বসে নেই। তারা ওয়াসা কিংবা গভীর নলকূপের পানি বোতলে ভরে অস্বাস্থ্যকর পানি বিক্রি করায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল পর্যন্ত ৭৮টি খনিজ পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু ওই বছর থেকে সরকার আইএসও গাইডলাইন অনুযায়ী পানি বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক কে এম হানিফ বলেন, ‘চট্টগ্রামে শতাধিক প্রতিষ্ঠান পানি সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক মান মেনে আমাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত লাইসেন্স পেয়েছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। আরও কিছু প্রক্রিয়াধীন। আগে যে ৭৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছিল, সেখান থেকে ১৫টির লাইসেন্স আমরা বাতিল করেছি।’
কেউ ওয়াসার লাইন থেকে কেউ বা গভীর নলকূপ বসিয়ে পানির জার ভর্তি করে বাজারে বিক্রি করছে বলে বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে। এটা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য পানির ছাড়পত্র প্রদানে নতুন একটি গাইডলাইন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বিএসটিআই মাঝেমধ্যে অবৈধভাবে পানি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। তারা জরিমানা ও মামলা দিয়ে থাকে।
গত এক বছরে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১১টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। মামলা হয়েছে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা খোয়াজনগর এলাকার সাফা ড্রিংক অ্যান্ড বেভারেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র পেয়েছে। এতে কারখানা পুনঃপ্রতিস্থাপন খরচ ১০ লাখ টাকা বেড়েছে বলে জানান ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুন্নবী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চন্দ বলেন, ‘১৩৫টির মতো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫-৩০টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বর্তমানে আর কারও লাইসেন্স নবায়ন নেই। আমারটিসহ আমাদের সদস্য অন্তত ২৫ জনের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াধীন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে গিয়ে অনেকের পথে বসার দশা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন