হরতাল ও লাগাতার অবরোধে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত দোকানমালিকেরা। আর চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন কর্মচারীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, হরতালের সময় চট্টগ্রামের বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রাখতেন মালিকেরা। কিন্তু হরতাল ও টানা অবরোধের কারণে গত শুক্রবার থেকে হরতালেও নগরের সব বিপণিবিতান পূর্ণ দিবস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু দোকান খোলা রাখলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুব কম।
চিটাগাং মেট্রোপলিটন শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হরতাল-অবরোধে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই এক বছরের মাথায় আবারও রাজনৈতিক কর্মসূচির বলি হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি অবরোধ-হরতালে চট্টগ্রামের দোকান মালিকদের দৈনিক ক্ষতি একশ কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় টেরি বাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজার। টেরি বাজারে কাপড়ের দোকান প্রায় ১ হাজার ৮০০টি। এখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলার ব্যবসায়ীরা কাপড় নেন। কিন্তু পরিবহন ও নিরাপত্তা-সংকটে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কাপড় নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে টেরি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। টেরিবাজারে প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসা করছেন ন্যাশনাল ক্লথ হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিক্রি ২৫-৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। বাইরের কোনো ক্রেতা আসছেন না। খুচরা ক্রেতার সংখ্যাও হাতেগোনা। এভাবে কদিন চালাতে পারব জানি না।’
টেরি বাজারের আজমীর ক্লথ সেন্টারের মালিক তৌসিফ আহমেদ জানান, তাঁদের দোকানে সাধারণত দৈনিক গড়ে ৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু অবরোধ-হরতালের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। তাঁরা নিজেরাও যেমন ঢাকা থেকে কাপড় আনতে পারছেন না, তেমনি চট্টগ্রাম নগরের বাইরের ক্রেতারাও তাঁদের কাছ থেকে কাপড় নিতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে লাভ তো দূরের কথা, প্রতিদিনই তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এভাবে চললে কর্মচারীদের ছাঁটাই করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
একই অবস্থা নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার একটি দোকানের কর্মচারী বলেন, ‘ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় মালিক গত মাসের পুরো বেতন দিতে পারেননি। এভাবে চললে হয়তো কয়েকদিন পর ছাঁটাই করবেন। তখন পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।’
ক্রেতাসংকটে ভুগছে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোও। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সাগীর বলেন, ‘সাহস করে আমরা দোকান খোলা রাখছি। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্রেতারা আসছেন না। জরুরি প্রয়োজন না থাকলে, এখন ক্রেতারা সহজে মার্কেটমুখী হচ্ছেন না।
ক্রোকারিজ-সামগ্রীর বড় বিপণিবিতান গোলাম রসুল মার্কেটের বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। এমনও দিন গেছে, সারা দিন কিছুই বিক্রি হয়নি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন